নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী সাবিনা আক্তারকে (২২) কুপিয়ে হত্যা করেছে স্বামী। এসময় বোনকে বাঁচাতে গেলে শালিকা শারমিনকেও (১৮) কুপিয়ে আহত করে নাছির উদ্দিন। ঘটনার পর ঘাতক স্বামী নাছির উদ্দিনকে (৩০) গ্রেফতার করে পুলিশ।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ফতুল্লার ভূইগড় কড়ইতলা চৌরাবাড়ি এলাকার নূর হোসেনের ভাড়াটিয়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাবিনা আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এলাকার গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে।
ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজি এনামুল হক নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এলাকার হযরত আলীর ছেলে নাছির উদ্দিনের সঙ্গে একই এলাকার গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে সাবিনা আক্তারের পারিবারিক বিয়ে হয়। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই বোন। তাদের সংসারে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
নাছির নেশাগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় সময় তার স্ত্রীকে মারধর করতো। তাদের সংসারে বনিবনা না হওয়ায় সাবিনার বাবা মেয়ে নাতনিদের ভুইগড় ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে আসে। শুক্রবার রাতে নাছির তার শ্বশুরের ভাড়াটিয়া বাসায় আসলে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়।
শনিবার সকালে ঝগড়ার একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে নাছির তার স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে। এসময় নাছিরের হাত থেকে বোনকে বাঁচাতে শারমিন বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩'শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে স্ত্রী কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় নিহতের পরিবারেরর লোকজন ও এলাকাবাসী নাছিরকে আটক করে উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ নিহত সাবিনার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
শাহাদাত হোসেন/এফএ/এমএস