দেশজুড়ে

চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু, বিচার চাইলেন আ.লীগ নেতা

কুমিল্লা নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় ফ্রান্সের নাগরিক প্রিতম আলম অন্তু নামে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার বিচার দাবি করেছেন তার পরিবার।

শনিবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হলের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন শিশুর বাবা ও আওয়ামী লীগের ফ্রান্স শাখার যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন অপু।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক আলমগীর হোসেন অপু অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার সকালে জ্বর ও বমি নিয়ে প্রিতমকে (৬) কুমিল্লা নগরীর মিডল্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. আজিজুল হোসেনের অধীনে ভর্তি করা হয়।

ওই চিকিৎসকের পরামর্শে বেলা ১১টার দিকে প্রিতমের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু দুপুরে ওই চিকিৎসক বাসায় চলে যান। সন্ধ্যায় হাসপাতালে ফিরে ওই চিকিৎসক এসব পরীক্ষার রিপোর্ট দেখেন।

পরে তিনি প্রিতমের শরীরে পটাশিয়ামের শূন্যতা উল্লেখ করে দ্রুত তাকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন। এর আগে পরীক্ষা রিপোর্ট যথাসময়ে না দেয়ার কারণে সঠিক চিকিৎসা সেবা ছাড়াই প্রায় ৭ ঘণ্টা হাসপাতালের বেডে রাখা হয় ওই শিশুকে।

ওই রাতে প্রিতমকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেয়ার পর রাত সোয়া ১১টায় সেখানকার ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অপু বলেন, আমি দীর্ঘদিন ফ্রান্সে বসবাস করেছি। আমার ছেলেকে দেশের উন্নত হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে। কিন্তু মিডল্যান্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময় মতো প্যাথলজি টেস্ট না করানো, রিপোর্ট দিতে চরম গড়িমসি ও ডাক্তার আজিজুল হক আমার ছেলের অবস্থা সংকটাপন্ন জেনেও সঠিক পরামর্শ না দিয়ে প্রাইভেট রোগী নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় খোঁজ-খবর না নিয়ে রোগীর চিকিৎসায় চরম গাফিলতি করেছেন।

আক্ষেপ করে তিনি আরও বলেন, আমার মতো কাউকে যেন চিকিৎসকের অবহেলায় এমনভাবে সন্তানহারা হতে না হয় সেজন্য আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিশু প্রিতমের মা নাজিয়া আলম পারভীন, ভাই ফাহিম আলম, শিশুর জেঠা জাহাঙ্গীর আলম, চাচা সাইদুল ইসলামসহ স্বজনরা।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান জানান, গত ১৬ জুলাই ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিটিকে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক আলমগীর হোসেন অপুর বাড়ি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বাগমারা এলাকার মনোহরপুর গ্রামে। গত ২২ জুন স্ত্রী ও ২ ছেলেকে নিয়ে ফ্রান্স থেকে তারা দেশে আসেন।

মো. কামাল উদ্দিন/এএম/জেআইএম