সারাদেশের মধ্যে মডেল সাতক্ষীরা জেলা কারাগার। এটা শুধু এখন আর কারাগার নয় বরং সংশোধনাগার। ইতোমধ্যে সরকার ২০১৬ সারাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কারাগার হিসেবে স্বীকৃতিও পেয়েছে কারাগারটি। এখানে বন্দিদের সঙ্গে বন্ধু সুলভ আচরণসহ তাদের আন্তরিকতার সাথে পুনর্বাসনের জন্য উদ্ধুব্ধ করা হয়।
বন্দিরা হাতের কাজ করেন সেখানে। বন্দিদের উদ্বুদ্ধ করা হয় কারিগরি প্রশিক্ষণের। আর এর মাধ্যমে উপার্জন করেন টাকা। নিজের কাছে কিছু রাখেন আর বাড়িতে এসব উপার্জিত টাকা পাঠিয়ে দেন বন্দিরা। অনেকে আবার জেল থেকে বেরিয়ে কারাগার থেকে নেয়া প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বি হচ্ছেন। ব্যতিক্রমী এ জেলা কারাগারের উদ্যোগে এখন উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বন্দিরাও।
কারাগারে আটক থাকা এক বন্দি জাগো নিউজকে জানান, আমি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছি। আমি এখন বুঝতে পারছি জীবন কতটা সুন্দর। আমি ভুল করে অপরাধ করেছিলাম। তবে এখন আর সংশোধনের উপায় নেই। আমার বিচার হয়েছে। সাজা হয়েছে। আগে যশোর কারাগারে ছিলাম সেখান থেকে এখন সাতক্ষীরা কারাগারে রয়েছি। এখানে এসে হাতের কাজের প্রশিক্ষণ নিয়ে কারাগারের ভেতরেই পুথির ব্যাগ তৈরির কাজ করি। কাজ করে আমি এক লাখ টাকা রোজগার করেছি। ৫০ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। বাকি ৫০ হাজার টাকা আমার পিসি কার্ডে রয়েছে।
তাছাড়া কারাভ্যন্তরে তৈরি করা হয় চটের ব্যাগও। ব্যাগগুলো বাইরে বিক্রি করা না হলেও কারাগারে আটক থাকা বন্দিদের জন্য স্বজনরা যেসকল খাবার পাঠান সেসব খাবার বহনের কাজে ব্যবহার করা হয়। দাম রাখা হয় ১০ টাকা। আর পুথির তৈরি হাত ব্যাগের বিভিন্ন ধরনের মূল্য রয়েছে।
চটের ব্যাগ তৈরির কাজে নিয়োজিত এক বন্দি জাগো নিউজকে বলেন, মাদক মামলায় জেলখানায় রয়েছি। এখানে বসে না থেকে কাজ করি। টাকাও রোজগার হয়। বাড়িতে পাঠিয়ে দেই টাকাগুলো। কিছু টাকা নিজের জন্য রাখি। জেল খানা থেকে বাইরে গিয়ে আমি এখান থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া বিষয়টি কাজে লাগিয়ে নিজে একটি দোকান করবো।
জেলা কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান জাগো নিউজকে জানান, কারা পরিদর্শক মহোদয় কারাগারকে একটি সংশোধনাগারে রুপান্তরিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। জেল সুপার মহোদয়ের আন্তরিকতায় আমরা জেলা কারাগারটিতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে বন্দিদের সংশোধনের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। বন্দিরাও বিষয়টিকে ভালো ভাবে নিচ্ছেন। সহযোগিতা করছেন।
তিনি আরও বলেন, বন্দিদের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র আমরা বাইরে বিক্রি করি। বিক্রির সিংহভাগ অর্থই বন্দিদের দিয়ে দেয়া হয়। আরও কিছু পদেক্ষেপ গ্রহণের জন্য আইজি মহোদয়কে লেখা হয়েছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবো। এখান থেকে শিখে যদি কোনো ব্যক্তি সমাজে গিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে তবেই আমাদের এ উদ্যোগ সফল হবে। তবে ইতোমধ্যে কয়েকজন বন্দি বাইরে গিয়ে পুথির ব্যাগের দোকান দিয়েছেন। কেউ চটের ব্যাগের দোকান দিয়েছেন। এটা আমাদের সফলতা যে, আমরা বন্দিদের পুনর্বাসিত করতে পেরেছি। সমাজের বিত্তবানরা যদি এসব মানুষদের কিছু সহযোগিতা করে তবে তারা সমাজে আরও ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।
আকরামুল ইসলাম/এমএএস/আরআইপি