সাতক্ষীরা জামায়াতের নায়েবে আমির, কেন্দ্রীয় জামায়াতের মজলিসি সুরা সদস্য প্রভাষক মাওলানা রফিকুল ইসলামের জানাযা নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাতক্ষীরা পুলিশ ৬৯ জন জামায়াতের নেতাকর্মীকে আটক করেছে। সোমবার বিকাল ৩টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত চলা অভিযানে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. আব্দুস সুবহান মুকুল, আশাশুনি উপজেলা পরিষদের ও জামায়াতের ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের জামায়াতের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেত্রী জয়নভ পারভিন, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের মহিলা সভানেত্রী মনোওয়ারা বেগম, সখিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভানেত্রী আনজুয়ারাসহ তাদের পরিবার এবং কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি আব্দুল ওহাব।
দেবহাটা জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান মুকুল জানান, তার স্ত্রীসহ ৫৫ জন মতো জামায়াতের পুরুষ ও মহিলা জানাজা নামাজ শেষে বাসে করে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ বাসসহ তাদেরকে আটক করে।
এছাড়া যশোরের মনিরামপুর থেকে আসা মহিলা জামায়াতের একটি প্রাইভেটকারসহ ১৫ জন মহিলাকে আগরদাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এসময় শহরের কদমতলা মোড় থেকে তালার খলিষখালি ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাস্টার শহিদুল ইসলামসহ বুধহাটা জামায়াতের আমির আব্দুস সালাম, শ্রিউলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির লুৎফর রহমান, সাতক্ষীরা সদরের জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুস সবুরসহ প্রায় ৪০ জনকে আটক করে পুলিশ। আগরদাড়ি মাদরাসা মোড় থেকে মিজানুর, মোস্তাফা, জয়নালসহ ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মারুফ আহম্মেদ জাগো নিউজে জানান, নাশকতার অভিযোগে ৬৯ জনকে আটক করা হয়েছে। সাতক্ষীরার ৭ উপজেলাসহ ঝিকরগাছা উপজেলায় আটককৃতদের বাড়ি। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত যারা দোষী তাদেরকে নাশকতার মামলায় চালান দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা জামায়াতের নায়েবে আমির প্রভাষক মাওলানা রফিকুল ইসলামের জানাজা নামাজ নামাজ আগরদাড়ি মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দুপুর ২টায়। প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে নামাজে সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেয়। নামাজে ইমামতি করেন অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী। পুলিশ প্রহরায় এবং ব্যাপক পুলিশি নজরদারির মধ্যে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ব্রেনস্টোক জনিত কারণে তিনি রোববার খুলনার একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
আকরামুল ইসলাম/বিএ