বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বহিরাগতরা হামলা করেছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ক্যাম্পাসের অদূরবর্তী লক্ষীপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে থানা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কুষ্টিয়া স-০০০৩ পরিবহনটি কুষ্টিয়া মজমপুর গেট থেকে সাড়ে ৭টার দিকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে আসার সময় পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সোহেল রানার সঙ্গে সিটে বসাকে কেন্দ্র করে আইন ও মুসলীম বিধান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শাহাদাৎ হোসেন নিশান, একই বিভাগের প্রসেনজিৎ দাস ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের মিজানুর রহমানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে সোহেল রানাকে তারা মারধর করে। সোহেল রানা লক্ষীপুরের স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় ওই বাসটি লক্ষীপুর বাজারে পৌঁছালে এলাকার ৭-৮ জন বহিরাগত বাসে হামলা করে। এসময় তারা মিজানকে বেধড়ক মারধর করে বলে জানা যায়।
সোহেল রানা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান আনিসের কর্মী এবং ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী লক্ষীপুর এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে মিজান, নিশান এবং প্রসেনজিৎ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম গ্রুপের কর্মী। এখবর ক্যাম্পাসে পৌঁছালে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের ৭-৮ জন কর্মী ঘটনাস্থলে যায়। এসময় হামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ বাসে অবস্থানকারী এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধর করে বলেও জানা যায়। এ ঘটনায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি মামলা করেছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ মামলার বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনা অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই বাসটিসহ সকল বাস নিরাপদে ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর ব্যাবস্থা করেছি। কিন্তু অবাক বিষয় দুই পক্ষের কেউ ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেনি।
ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/এফএ/এমএস