জাতীয়

ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদের ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ

ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদের ৯২তম জন্মবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার (১ আগস্ট) । তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র ও বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এম এ ওয়াদুদ ১৯২৫ এর ১ আগস্ট চাঁদপুর জেলার রাঢ়ির চর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

এম এ ওয়াদুদ গণতান্ত্রিক যুবলীগ (১৯৪৮), পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ (১৯৪৮) ও কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলার (১৯৫৬) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। এম এ ওয়াদুদ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ (১৯৪৯), সাপ্তাহিক ইত্তেফাক (১৯৪৯) ও দৈনিক ইত্তেফাক (১৯৫৩) প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহযোগী ছিলেন।

এম এ ওয়াদুদ ১৯৫৩-৫৪ সালে প্রাদেশিক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দু'বার নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১ (এক) বার প্রাদেশিক ছাত্রলীগের সহ সম্পাদকের দায়িত্বও তিনি নিষ্ঠা ও সাফল্যের সাথে পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে ১৯৪৮ সালে একবার এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত দ্বিতীয়বার কারাবরণ করেন। ১৯৫৪ সালে ৯২(ক) ধারা জারি করে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করার পর ছাত্র আন্দোলনকে স্থিমিত করার জন্য পুনরায় এম এ ওয়াদুদকে কারারুদ্ধ করা হয়। ১৯৪৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে তৎকালীন শাসকদের রুদ্ররোষের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপন করতে তিনি বাধ্য হন। ১৯৪৯ সালে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে বঙ্গবন্ধুসহ এম এ ওয়াদুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন।

১৯৭৮ সালে সামরিক সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে মন্ত্রীত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য তিনবার বিভিন্ন মেয়াদে এম এ ওয়াদুদ কারাবরণ করেন। সামরিক শাসনের সময়ে তার বিরুদ্ধে বারবার মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হয়।

এম এ ওয়াদুদ ১৯৪৭ এর দেশভাগের পর থেকে ১৯৭১ পেরিয়ে ১৯৮৩ এর ২৮ শে আগস্টে মৃত্যুবরণের আগ পর্যন্ত বাঙালির ভাষা, স্বাধীকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির সকল আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ডা. দীপু মনি তার একমাত্র কন্যা এবং ডায়াবেটিক ফুট সার্জন ডা. জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ (টিপু) তার একমাত্র পুত্র।

এমইউ/এআরএস/জেআইএম