শরীয়তপুর পৌরসভার চৌরঙ্গী মোড় সংলগ্ন শরীয়তপুর নার্সিং হোমে ভুল চিকিৎসায় মা ও শিশুর মৃত্যু এবং ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় শরীয়তপুর সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার রাতে এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেন শরীয়তপুর সিভিল সার্জন নির্মল চন্দ্র দাস।
জানা যায়, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনির আহম্মদ খানকে সভাপতি, সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সাজেদা খাতুন, অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রফিকুল ইসলাম ও শরীয়তপুর সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সাহিনুর নাজিয়াকে সদস্য করে ৪ সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
শরীয়তপুর সিভিল সার্জন নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, শরীয়তপুর নার্সিং হোমে ভুল চিকিৎসায় মা ও শিশুর মৃত্যু ও ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি সিভিল সার্জন অফিসে তিন দিবসের মধ্যে মৃত্যুর কারণ জানিয়ে তদন্তের প্রতিবেন জমা দেবে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই সকাল ১০টায় শরীয়তপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের তুলাসার গ্রামের মিলন তালুকদারের স্ত্রী রুমা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে শরীয়তপুর নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে রুমার স্বামী চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ওই নার্সিং হোমের চেয়ারম্যান চিকিৎসক এম.এ. দাউদ রোগীকে ক্লিনিকে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ রুমার স্বামীর। পরে দুপুর দেড়টার দিকে এম.এ. দাউদ রুমার সিজার করার জন্য নার্সিং হোমের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান এবং রুমাকে অজ্ঞান করার জন্য তার শরীরে ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেয়ার পর মা ও শিশু উভয়েই মারা যায়।
এ ঘটনায় রুমার স্বজনরা শরীয়তপুর নার্সিং হোম ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করে। বিক্ষোভ করার খবর পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শরীয়তপুর নার্সিং হোমের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। কিন্তু এর মধ্যে নার্সিং হোমের চিকিৎসক, নার্স ও পরিচালনাকরীরা সকলেই পালিয়ে যায়।
ছগির হোসেন/এফএ/পিআর