দেশজুড়ে

মায়ের সঙ্গে ঈদ করা হলো না গৃহকর্মী লাইলীর

‘বাড়িওয়ালা কয় মাস থাকি কোনো বেতন দেয় না, শুক্রবার বেতন নিয়া বাড়ি আসপ্যার চাইছিল লাইলী। এবার বাড়ি আসি হামার সাথে কুরবানি ঈদ করবার চাইছিল।’

শুক্রবার ঢাকার বনশ্রীর ‘জি’ ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাসার নিচ তলায় মৃত্যু গৃহকর্মী লাইলী বেগমের (৩২) মা আলেয়া বেগম মেয়ের মৃত্যুর খবরে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলেন।

নিহত গৃহকর্মী লাইলীর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার কালিরহাট বাজার সংলগ্ন সমন্বয় পাড়ায়। শুক্রবার বিকেলে তার মৃত্যুর খবর টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পারে স্বজনরা। এরপর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন নিহত লাইলীর বাবা নজরুল ইসলাম (৫০)। মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা আলেয়া বেগমসহ প্রতিবেশীরাও।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলেয়া বেগম বলেন, ‘মনে ডাকছে, ওই বাড়িওয়ালা আমার মেয়েকে মারছে। এখন ওর দুই অবুঝ শিশুর ভাগ্যে কি হইবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।’

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে লাইলী তার বড় বোন লাভলী বেগমকে ফোনে বলেছে সে কয়েক মাসের বকেয়া বেতন নিয়ে বাড়ি আসবে। গত কয়েক মাস থেকে বাড়িওয়ালা তাকে বেতন দিচ্ছে না। মাসিক ছয় হাজার টাকা বেতনে লাইলী ওই বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেন। কাজ নেয়ার পর থেকে নিয়মিত তাকে বেতন দিতেন না বাড়িওয়ালা। এ জন্য তার নিজের বাসা ভাড়া বাকি পড়ে গেছে। অনেক কষ্টে ঢাকা শহরে ধারদেনা করে তাকে চলতে হচ্ছিল। শুক্রবার লাইলী বকেয়া বেতন নেয়ার জন্য ওই বাড়িতে গিয়েছিল বলে তিনি জানান।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১০ বছর আগে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মধ্যকাশিপুর গ্রামে দিনমজুর নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় লাইলীর। তাদের ঘরে মরিয়ম (৫) ও আতিকুর রহমান (৩) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে লাইলীর স্বামী নজরুল হক কাজের সন্ধানে ভারতে যান। যাওয়ার পথে বিএসএফের কাছে সীমান্তে ধরা পড়েন তিনি। বর্তমানে তিনি ভারতের কোচবিহার জেলার কারাগারে বন্দি।

এদিকে অভাবের তাড়নায় গত বছর তার ননদ জাহানারার মাধ্যমে দুই সন্তানকে নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকায় যান লাইলী। সর্বশেষ গত সাত মাস আগে বাড়ি এসেছিলেন লাইলী। নাজমুল হোসাইন/আরএআর/এমএস