যশোর শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলেও শার্শা উপজেলার ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মুখে এবার হাসি নেই। এ বছর শুরুর দিকে এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণে প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে পরীক্ষা গ্রহণ ছিল পূর্বের বছরগুলোর চেয়ে ভিন্ন। তাই শিক্ষকরাও আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ায় এ ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ। এবারের ফলাফলে শত শত জিপিএ-৫ ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ এর ছড়াছড়ি না থাকায় স্কুলগুলোতে আনন্দও নেই।মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শার্শার ৩৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ২ হাজার ২শ ২৪ ছাত্র-ছাত্রী অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬১৪ জন ছাত্র-ছাত্রী পাশ করেছে। ফেল করেছে ৬০৬ জন। ৯৩ জন জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। গড় পাশের হার শতকরা ৭২ দশমিক ৫৮ ভাগ। ৩৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষার গুণগত মান ও আনুপাতিক হারে নাভারন বুরুজবাগান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যলয় ও বুরুজবাগান বালিকা বিদ্যালয় পাশের হারের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে। তবে গোল্ডেন জিপিএ-৫ এর দেখা মেলেনি কোনো প্রতিষ্ঠানে। শার্শায় শিক্ষার মানের ক্রমাবনতির ফলে শিক্ষার মান ও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অভিভাবক ও সচেতন মহলের। এছাড়া শার্শার ৩২টি দাখিল মাদ্রাসায় ৬১৭জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাশ করেছে ৪৪৯ জন। জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ৩৮ জন। মাদ্রাসার পাসের হার গড় শতকরা ৭২ দশমিক ৭৮ ভাগ। বেনাপোল মহিলা আলীম মাদ্রসায় ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৪ জনই কৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। পাঁচভুলোট দাখিল মাদ্রাসায় ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৪ জনই পাশ করেছে। এর মধ্যে ৩ জন জিপিএ ফাইভ পেয়ে ৩২টি মাদ্রাসার মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করে নেয়। এলাকার সচেতন অভিভাবকরা বলেছেন শিক্ষার মান যাই হোক কিন্তু প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কর্মচারির স্বল্পতা নেই। প্রতিমাসে সরকারকে গুণতে হচ্ছে বেতন বাবদ লাখ লাখ টাকা। দু`একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী অতি নগন্য। কিন্তু শিক্ষকের দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র মজুমদার জাগাে নিউজকে জানান, হরতাল অবরোধে বার বার পরীক্ষা পেছানোর কারণে ফলাফল বিপর্যয় হযেছে। যারা ভাল পড়াশুনা করেছে তারাই পরীক্ষায় ফলাফল ভালো করেছে। অনেক স্কুল ভালো ফলাফল করেছে। ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মুখে এবারের ফলাফলে হাসি নেই এটা ঠিক না। মো. জামাল হোসেন/এমজেড/এমএস