পাঁচ হাজার টাকা উৎকোচ দেয়ার সামর্থ ছিল না অশীতিপর বৃদ্ধ আজাহার আলীর (৬৮)। ভিক্ষাবৃত্তি করে চলে টানাটানির সংসার। নাছোড়বান্ধা মেম্বার আলীমুদ্দীন উৎকোচের টাকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ভিক্ষাবৃত্তির টাকায় পালিত খাসি ছাগলটি নিয়ে যায়। ঘটনার ১০দিন পেরিয়ে গেলেও বরাদ্দ তালিকায় নাম বা ছাগল ফেরৎ না পাওয়ায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে নালিশ করলে মেম্বারের কুকীর্তি ফাঁস হয়ে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে।
ভিক্ষুক আজাহার আলী জানান, ভিক্ষা করি মোর জীবন চলে। অনেক কষ্ট করি দুইটা ছাগল পুষচং। একটা খাঁসি ছাগল ঘর তুলি দিবের নাম করি মেম্বর আলীমুদ্দীন নিয়া গেইচে। কিন্তু ১০ দিন পার হয়া গেইল, মেম্বর ছাগলও দেয় না ঘরও তুলি দেয় না। এ্যালা মুই যাং কোটে।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘর বরাদ্দের তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্ত করতে ভিক্ষুক আজাহার আলী কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের (মধ্য কাশিপুর) সদস্য আলীমুদ্দীনের কাছে আবদার করে। সম্প্রতি এই প্রকল্পের আওতায় যার জমি আছে কিন্তু ঘর নেই, তাদেরকে সরকারি উদ্যোগে ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছিল। ভিক্ষুক আজাহার আলী জানান, আমার ৩ শতক জমিতে কোনো ঘর না থাকায় ওই সদস্যের শ্মরণাপন্ন হই। এজন্য ইউপি সদস্য টাকা দাবি করলে তিনি অপারগতা জানান। পরে তিনি তাগাদা দিয়ে বলেন যে, সময়মতো টাকা দিতে না পারলে বরাদ্দকৃত ঘর পাওয়া যাবে না। এর দুইদিন পর ওই ইউপি সদস্য আজাহার আলীর বাড়িতে গিয়ে ৪ হাজার টাকার বদলে তার খাসি ছাগল নিয়ে আসে। বাকি এক হাজার টাকা দ্রুত পৌঁছে দেয়ার কথা বলেন। এ ব্যাপারে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলীমুদ্দীন জানান, এটা আমার প্রতিপক্ষদের মিথ্যা প্রচারণা। আমি কোরবানি ঈদের জন্য টাকা দিয়ে ছাগলটি কিনেছি। সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মন্ডল জানান, বিষয়টি আমার নলেজে এসেছে। আমি মিটিংয়ের জন্য কুড়িগ্রামে অবস্থান করছি। ফিরে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
ঘটনাটি জানার পর ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ ঊরাঁও বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কিছু লোক প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এ রকম কাজ করছে। তবে খুব দ্রুত সময়ে ভিক্ষুকের ছাগলটি ফেরত দেয়া হবে।
নাজমুল/এমএএস/এমএস