বাগেরহাটের শরণখোলার তাফালবাড়ি এলাকার অপু কর্মকারের ঘর থেকে তার স্ত্রী শম্পা রানী কর্মকার (২৫) ও চার বছরের সন্তান অরন্য কর্মকারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এসময় দেড় মাসের অপর সন্তান অর্নবকে গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস দেয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের উপস্থিতে মা ও সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশু অর্নবকে স্থানীয় উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে শরণখোলা থানা পুলিশের ওসি আব্দুল জলিল জানান।
এলাকাবাসী জানায়, শরণখোলা উপজেলার তাফালবাড়ি এলাকার লালু কর্মকারের ছেলে অপু কর্মকার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবেও এলাকায় বেশ পরিচিত। মঙ্গলবার সকালে অপু কর্মকার শরণখোলা থেকে ব্যবসায়ীক কাজে জেলার বাইরে যায়। এ অবস্থায় প্রতিবেশীরা তার ঘরে তালাবদ্ধ দেখে সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে দুপুরের দিকে ওই ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে প্রথমে তাফালবাড়ি ফাঁড়ির ইনচার্জ আরাফাত হোসেনকে বিষয়টি জানানো হয়। বিকেল ৪টার দিকে ওসি আব্দুল জলিলের উপস্থিতিকে তালা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় শম্পা রানী ও তার চার বছরের সন্তান অরণ্য কর্মকারের লাশ উদ্ধার করে। এসময়ে ঘরের মেঝেতে গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস দেয়া দেড় মাসের অপর সন্তান অর্নব কর্মকারকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
তাফালবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আরাফাত হোসেন জানায়, শম্পা রানী ও শিশু অরণ্যকে কে হত্যা করেছে তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
শরণখোলা থানা পুলিশের ওসি আব্দুল জলিল জানান, পারিবারিক কলহের কারণেই মা ও ছেলের হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এঘটনায় থানায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। নিহত শম্পা রানী কর্মকারের বাড়ি যশোর জেলায়। তার পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে। শম্পার স্বামী অপু কর্মকার ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।
শওকত আলী বাবু/এমএএস/আরআইপি