যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি বুধবার খালি করে ফেলা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি ব্যবহার না করার জন্য মঙ্গলবার চিঠি দিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। চিঠি পাবার পর ওই ভবনের রোগী সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বুধবারের মধ্যে ওই ভবনের সব রোগী পুরাতন আরএমও (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) কোয়ার্টারে স্থানান্তর করা হবে বলে তত্ত্বাবধায়ক নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের পুরাতন সার্জারি ভবনের ছাদে কিছুদিন আগে ফাটল দেখা দেয়। পলেস্তারাও খসে পড়ে। বিমের চাপে বারান্দার গ্রিলও বাকা হয়ে গেছে। অথচ এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের দ্বিতীয় তলা ও নিচতলায় চলছে কয়েক’শ রোগীর চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম।
সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট ছাদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বাঁশের খুঁটি দেয় গণপূর্ত বিভাগ। এ বিষয়ে গত ৭ আগস্ট জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে গণপূর্ত বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সর্বশেষ ৭ আগস্ট যশোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফ্রান্সিস আশীষ ডি. কস্তা স্বাক্ষরিত চিঠি ৮ আগস্ট যশোর জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কাছে পৌঁছায়।
গণপূর্ত বিভাগের ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৭ আগস্ট হাসপাতালের পুরাতন দ্বিতীয় তলা ভবনটি নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। গত ৬ আগস্টের চিঠিতে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতীয়তলার বারান্দা ব্যবহার না করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। কিন্তু প্রচুর সংখ্যক রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজন অবিরাম ঝুঁকিপূর্ণ বারান্দা ব্যবহার করছে।
এতে যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা হতে পারে। তাছাড়া ভবনটির কক্ষসমূহের অভ্যন্তরীণ বিম ও ছাদের বিভিন্নস্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনটির কক্ষ ও বারান্দার বিভিন্নস্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশের স্থিরচিত্র গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট ডিজাইন বিশেষজ্ঞ বরাবর পাঠানো হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ডিজাইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করে এবং ভবনের আয়ুষ্কাল বিবেচনায় বর্তমান অবস্থায় ব্যবহার উপযোগী নয়। ভবনটি ব্যবহার করলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভবনটির নিচতলা ১৯৪০ সালে এবং দ্বিতীয়তলা ১৯৭০ সালে নির্মিত। ইতোপূর্বে ভবনটি কয়েক দফায় মেরামত ও সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছিল। এমতাবস্থায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ডিজাইন বিশেষজ্ঞ কর্তৃক সরেজমিনে পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ প্রদত্ত কারিগরি পরামর্শ অথবা প্রতিবেদন মোতাবেক পরর্বতী ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত ভবনটি জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনোরূপ ব্যবহার না করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কামরুল ইসলাম বেনু বলেন, গণপূর্ত বিভাগের চিঠি পেয়েছি। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক ওই ভবনের রোগী সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামীকালের (বুধবার) মধ্যে সব রোগী পুরাতন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) কোয়ার্টারে স্থানান্তর করা হবে।
মিলন রহমান/এমএএস/এমএস