কুমিল্লার দেবিদ্বারে আখতারুজ্জমান নামে এক প্রবাসীকে হত্যার দায়ে তার স্ত্রী ও স্ত্রীর প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বুধবার কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক নূরনাহার বেগম শিউলী এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দেবিদ্বার উপজেলার গৌরসার গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে ছালমা আক্তার এবং ছালমা আক্তারের প্রেমিক একই উপজেলার ধামতি গ্রামের মৃত দুধ মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, পরকীয়া প্রেমের জের ধরে বিগত ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর দুপুরে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার দক্ষিণ খাঁর গ্রামের মৃত আবদুল মজিদ সরকারের ছেলে প্রবাসী আখতারুজ্জমানকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার স্ত্রী সালমা আক্তার ও পরকীয়া প্রেমিক নূরুল ইসলাম।
পরে মৃত্যুর বিষয়টি ‘স্ট্রোক’ হিসেবে এলাকায় প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে নিহতের ছোট ভাই আবু হানিফ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে দেবিদ্বার থানা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইমাম হোসেন মামলার তদন্তপূর্বক ১৪ সালের ২৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। কিন্তু অভিযোগপত্র থেকে পরকীয়া প্রেমিককে বাদ দেয়ায় ওই অভিযোগ পত্রের বিরুদ্ধে মামলার বাদী নারাজী দাখিল করার পর বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি অধিকতর তদন্ত করার জন্যে কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) প্রেরণ করেন।
পরবর্তীতে কুমিল্লার গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক এ কে এম মঞ্জুরুল আলম মামলার মামলার তদন্তপূর্বক ওই দুই আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ওই মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আজ এ রায় দেন।
মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মঞ্জুরুল আলম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কামাল উদ্দিন/আরএআর/জেআইএম