টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে হিঙ্গানগর চরপাড়া ও গজিয়াবাড়ি গ্রামের মধ্যে সৃষ্ট সংঘর্ষে মোশারফ হোসেন নামের এক যুবক নিহত হয়। এ ঘটনায় অপর পক্ষের মামলায় হিঙ্গানগর চরপাড়া গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। গ্রেফতার এড়াতে পুরুষরা গ্রামের বাইরে থাকায় এ গ্রামে দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড মানবিক বিপর্যয়। ঘটনার দিনই হিঙ্গানগর চরপাড়া গ্রামের ৩৯জনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়। এ সুযোগে প্রতিপক্ষ দলের লোকজন হিঙ্গানগর গ্রামের লোকজনদের উপর নানাভাবে নির্যাতন চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাড়িঘর ভাংচুর, মেয়েদের উত্ত্যক্ত এমন কি অতিশয় বৃদ্ধ এক পুরুষকে দিগম্বর করার ঘটনারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভয়ে ক্ষেতের পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছে না এ গ্রামের ধান চাষিরা। এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে ওই গ্রামে। একদিকে পুলিশের হয়রানি অপরদিকে প্রতিপক্ষ গ্রামের হামলার ভয়। গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সবাই। সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ওই গ্রামে শিশু, অতিশয় বৃদ্ধ ও নারী ছাড়া কোনো পুরুষ মানুষকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মাঠের পাকা ধান মাঠেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সবজি চাষিদের সবজি বাগানেই বিনষ্ট হচ্ছে। এমনকি সবজি ক্ষেতে সেচ কাজে ব্যবহৃত স্যালো মেশিনও নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। বাধ্য হয়ে বাধার মুখেই ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করছেন নারীরা। পুরুষরা পালিয়ে থাকায় দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোও আনতে পারছেন না তারা।এ দিকে মামলার (তদন্ত) কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে নারীদের হয়রানি, অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ, বাড়িঘর ভাংচুর ও শিশুদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিতুকে ভয় ভীতি দেখানোয় অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে সে। আব্দুল আজিজের স্ত্রী রেহেনা বেগম বলেন, পুলিশ ও গজিয়াবাড়ি গ্রামের লোকজনের অত্যাচার ও গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকায় কোনো পুরুষ মানুষ নেই। গ্রামের পাশে এলেংজানী নদীতে গোসল করতে গেলেও নারীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার (তদন্ত) কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের চাকরি করলে অনেক কথাই শুনতে হয়। তবে আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উঠেছে তা আদৌ সত্য নয়। এ দিকে উপজেলার বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, প্রশাসনকে জনগণের নিরাপত্তার জন্য যত্নবান হতে হবে। মানুষের বাড়ি ঘর ভাংচুর করে নয় বরং পুলিশকে জনগণের বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে এবং পুরুষরা যাতে নির্বিঘ্নে গ্রামে এসে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে তার নিশ্চয়তা প্রশাসনকেই দিতে হবে।এসএস/পিআর