দেশজুড়ে

পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা মানুষ, আরও ৭ বাড়ি বিলীন

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় অব্যাহত পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা মানুষ। বসত বাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা কিছুই রক্ষা করতে পারছে ভাঙনকবলিতরা। মঙ্গলবার নতুন করে আরও ৭ বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

গত ৪ দিনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের শেষ মাথা নামক স্থানসহ আশপাশের প্রায় ২৮টি বসতভিটা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এরই সঙ্গে রাত দিন করে থেকে থেকে ৩৪ বিঘা ফসলি জমি, বিদ্যুতের খুঁটি, বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকশ গাছপালা পদ্মার পানিতে মিশে গেছে।

ওই এলাকার মাসুদ মোল্যা, সাইদুর মোল্যা, সামাদ মোল্যা, মাসুদ মোল্যা, রাজ্জাক মন্ডল, আসরাফ মন্ডল ও সোহেল মন্ডলসহ অনেকেই ভাঙনের কবলে পড়েছেন।

আতঙ্কে রয়েছেন নদী পাড়ের মানুষ ও চরম হুমকিতে রয়েছে ফাজেল খার ডাঙ্গী ও মোল্লা ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভুক্তভোগীরা এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিলেও এদের অনেকেই পরিবার পরিজন ও গরু ছাগল নিয়ে আশেপাশের রাস্তায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। ভাঙনকবলিত এলাকা সদর বাজার হতে দেড় কি. মি. দূরে হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে ভাঙনকবলিত দুটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমের গত দুইদিনে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পাড় ছুঁই ছুঁই করছে। সেই সঙ্গে তীব্র স্রোতের তোড়ে ভাঙনের করাল গ্রাসে পরিবারগুলো বাড়ি ঘড় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সগীর হোসেন জানান, নদীতে ভেঙে যাওয়া কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করেছেন তিনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগতসহ ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহামুদ বলেন, আমি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধে এই মুহূর্তে আমাদের হাতে কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই। এছাড়া ভাঙন এলাকার পেছনে বেড়িবাঁধ রয়েছে। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছি।

এ বিষয়ে উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজাদ খান বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে শুধু কয়েকটি গ্রাম নয়, চরম হুমকির মুখে রয়েছে এখানকার সরকারি বেসরকারি স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও উপজেলা পরিষদ। দ্রুত পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে চরভদ্রাসন উপজেলার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।

এস.এম. তরুন/এএম/পিআর