দেশজুড়ে

নওগাঁয় বন্যার সঙ্গে ‘খাড়ার ঘা’ বৃষ্টি

একেতো বান, তার উপর মঙ্গলবার থেকে নওগাঁর বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আর এতে ছোট যমুনা ও আত্রাই নদী পানি কানায় কানায়। যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। জোয়ারে যেন যৌবন উপচে পড়ছে নদীর। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ভেঙে রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা এবং গত তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৪টি স্থান ভেঙে গেছে।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ছোট যমুনা নদীতে বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার এবং জেলার মহাদেবপুর, ধামইরহাট, মান্দা ও আত্রাই উপজেলার আত্রাই নদীতে ২১৪ সেমিন্টমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতেই জেলার পত্নীতলা উপজেলার পাটিচরা ইউনিয়নের কাশিপুর নামক বাঁধ ভেঙে গেছে। বাঁধ ভাঙার কারণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এছাড়া ছোট যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নওগাঁ শহর রক্ষা বাঁধ এবং বাঁধের আউটলেট (নদী থেকে পানি বের করে দেওয়ার নালা) উপচে শহরের কাজীর মোড় থেকে সরিষা হাটির মোড়, ডিগ্রী কলেজ মোড় থেকে শহরের লাইব্রেরী পট্টি, পোস্ট অফিস পাড়া, শহরের সুপারি পট্টি, কালীতলা, নাপিত পাড়া, আরজি নওগাঁ, পাটালির মোড় প্লাবিত হয়েছে।

রানীনগর উপজেলার ঘোষগ্রামের সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এবারের বন্যা মনে হচ্ছে স্মরণকালের। এর আগে ১৯৮৮ ও ১৯৯৫ সালে হয়েছিল। একতো বন্যায় চারিদিকে পানির থৈ থৈ তারপর উপর বৃষ্টি। মনে হচ্ছে নওগাঁবাসী পানিতে ভেসে যাবে।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, বিপজ্জনক অবস্থা থেকে পানি এখন সাড়ে ৭ ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতে অতিরিক্ত পানির চাপের কারণে বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পানির চাপ বাড়তে থাকবে। এরপর আস্তে আস্তে কমতে থাকবে।

আব্বাস আলী/এফএ/জেআইএম