দেশজুড়ে

প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে বালু উত্তোলন

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদীতে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। ইজারাদার কামাল হোসেন নামে এক প্রভাবশালী প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গত প্রায় দু`মাস ধরে এ বালু উত্তোলন করে আসছেন। ইতোমধ্যে তিনি ৫টি মৌজায় ২৫টি ড্রেজার ব্যবহার করে ২০ লক্ষাধিক টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকার প্রায় ৭০ লাখ টাকার রাজস্ব হারাবে।মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর ফেরিঘাট ব্রিজের উজানের ৫টি মৌজা দোসতিনা, কালিকাপুর, আয়াপুর, লক্ষ্মীরামপুর ও মদনচক বালুমহালটি বাংলা ১৪২২ সনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌরী গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে কামাল হোসেন ১ কোটি ১৮ লাখ টাকায় ডেকে নেন। ভ্যাট ও আয়করসহ যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।ডাকের টাকা জমা দিলেও ভ্যাট ও আয়করের ২৬ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করেননি ইজারাদার কামাল হোসেন। এজন্য বালুমহালটি সরকারিভাবে বুঝে দেয়া হয়নি। জেলা প্রশাসক প্রদত্ত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির ১০ নম্বর শর্তে উল্লেখ রয়েছে, ডাক অনুমোদনের এক সপ্তাহের মধ্যে সমুদয় টাকা জমা দিয়ে দখল বুঝে নিতে হবে। অন্যথায় বালু উত্তোলন ও ডেজ্রিং সম্পূর্ণ অবৈধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দরপত্রের শর্ত উপেক্ষা করে দখল বুঝে না নিয়েই প্রায় দুই মাস ধরে অবৈধভাবে এসব মৌজা থেকে বালু উত্তোলন করছেন ইজারাদার কামাল হোসেন।অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আর ৪ মাস এভাবে বালু উত্তোলন করতে পারলে অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেবেন ইজারাদার কামাল হোসেন। ইজারা আইনে কাজের আদেশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ভ্যাট-আয়করসহ ডাকের সমুদয় টাকা জমা দিয়ে কাজ বুঝে নেয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু তা না করেই এ আইনি ফাঁক ফোকর সৃষ্টি করে বালু উত্তোলন শুরু করেছেন ইজারাদার কামাল হোসেন। তিনি ৬ মাস পর কাজ বুঝে নিয়ে আরো এক বছর ধরে নদীতে বালু তোলার সুযোগ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।কামাল হোসেন, সবুজ মৃধা ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ কয়েক ব্যক্তি ইজারার নামে আত্রাই নদীর কালিকাপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় ৩টি ড্রেজার স্থাপন করে পহেলা বৈশাখ থেকে বালু উত্তোলন ও ক্যাশ মেমোর মাধ্যমে বালু বিক্রি করে আসছেন। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখলে বাজার রক্ষা বাঁধের মেট্রোসিং এ ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কালিকাপুর বাজারসহ আশপাশের অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।নওগাঁর রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) এডাব্লিউএম রায়হান জাগো নিউজকে জানান, ভ্যাট ও আয়করের টাকা পরিশোধ না করায় ঠিকাদার কামাল হোসেনকে বালুমহাল বুঝে দেয়া হয়নি। দখল বুঝে না নিয়ে বালু উত্তোলন করে থাকলে তা অবৈধ। বিষয়টি বেআইনি দাবি করলেও ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা নেননি তিনি।এমজেড/আরআই