নাটোরে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। আত্রাই নদীর সিংড়া পয়েন্টে বর্তমানে বিপদ সীমার ৯২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় এবং কোথাও কোথাও আশ্রয়কেন্দ্র খোলার কারণে জেলার ১০৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে।
বন্যার পানিতে জেলার ১৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সাড়ে ১ হাজার ৭০০ পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে মাছ চাষিদের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, জেলার মোট ১৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমির, রোপা আমন ও আউশ ধান এবং সবজি ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে সিংড়া উপজেলায় ১১ হাজার ৮১০ হেক্টর, নলডাঙ্গায় ৯৬২ হেক্টর, গুরুদাসপুরে ১৮৬ হেক্টর এবং সদরে ১৪৭ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের গম, সরিষা , ভুট্টা ও সবজি চাষে বীজ ও সারের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। এ জন্য বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে কৃষকদের পুনর্বাসনে ৯৩১ লাখ টাকার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, জেলার সাড়ে ১ হাজার ৭০০ পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ায় মাছ চাষিদের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ জন্য ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষিদের নামের তালিকা তৈরি করে তাদের পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, বন্যা পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে উন্নতি হচ্ছে। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় এবং কোথাও কোথাও আশ্রয়কেন্দ্র খোলার কারণে জেলার ১০৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে ২৭টি।
রেজাউল করিম রেজা/এএম /পিআর