নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলায় শুক্রবার ও শনিবার অভিযান চালিয়ে সিএনজি ছিনতাই চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থানরত র্যাব-১১ সদস্যরা। শনিবার বিকেলে র্যাব-১১ এর সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান র্যাব-১১এর সিও লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান। র্যাব-১১ কার্যালয়ে শনিবার বিকাল ৫ টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান জানায়, দীর্ঘদিন যাবত একটি চক্র বিভিন্ন স্থানে সিএনজি ছিনতাই করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে মালিকের কাছেই আবার ওই সিএনজি বিক্রি করে আসছিল। লক্ষ্মীপুরের একটি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এ চক্রের ৭ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে র্যাব-১১ সদস্যারা। গ্রেফতারকৃত ছিনতাই চক্রের সদস্যরা হলেন, শুকুর আলী (৪৭), বাবুল চন্দ্র মজুমদার (৪০), পলাশ হোসেন (২২), মশিউর রহমান (৫৩), মো. গিয়াস উদ্দিন (৩২), জিল্লুর রহমান ওরফে বাবু (৩০) ও তাজুল ইসলাম (৫৫)। র্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শুক্কুর ও বাবুল প্রাথমিক পর্যায়ে সিএনজি চালকদের কৌশলে কিছু খাইয়ে তাদের অজ্ঞান করে যে কোন এক স্থানে অজ্ঞান হওয়া চালককে রেখে সিএনজি নিয়ে পালানোর কাজ করতো। সিএনজি চুরির পর গ্রেফতার হওয়া ছিনতাইকারী পলাশ সেটা চালিয়ে নিয়ে ছিনতাইকারী বাবুর গ্যারেজে নিয়ে যায়। সেখানে ইঞ্জিন/চেসিস নাম্বার পরিবর্তন করাসহ যেকোন পরিবর্তন/পরিবর্ধন এর কাজ করতো বাবু। গ্রেফতার হওয়া গিয়াস ঐ সব চোরাই সিএনজি বেচা কেনার দালালি করতো। তাকে সহায়তা করতো গিয়াসের মামা ও গ্যারেজের মালিক বাবু। গ্রেফতার হওয়া তাজুল এসব চোরাই সিএনজির ক্রেতা এবং মশিউর চোরাই সিএনজি’র ক্রেতার পক্ষ হয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এর কাজ করতো। এই চক্রের সবাই মিলে একযোগে দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় সিএনজি ছিনতাইয়ের কাজ করে আসছিল। গ্রেফতার হওয়ার পর ৭ সিএনজি ছিনতাইকারী তাদের এ সকল কর্মকাণ্ড র্যাবের কাছে স্বীকার করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এদের সঙ্গে আব্দুল মতিন ও মজিবুর রহমান নামের দুই ছিনতাইকারী এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন র্যাব। হোসেন চিশতী শিপলু/এসএস/আরআইপি