দেশজুড়ে

শিক্ষকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অপবাদ, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

প্রাইভেট শিক্ষকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অপবাদ সইতে না পেরে সাতক্ষীরায় রিমা খাতুন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। শনিবার ভোরে সদর উপজেলার বল্লী গ্রামে বাড়ির পাশের আম গাছ থেকে ওই স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

রিমা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী গ্রামের কাঠ মিস্ত্রি জাকির হোসেনের মেয়ে এবং একই গ্রামের মুজিবর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী।

রিমার মা ফজিলা খাতুন জানান, শুক্রবার সকালে তিনি স্বামীর সঙ্গে বড় জামাই মো. নাসির উদ্দিনের বাড়িতে যান। সন্ধ্যার পর প্রাইভেট শিক্ষক রেজাউল ইসলাম পড়ানোর জন্য তাদের বাড়িতে আসেন। পড়ানোর এক পর্যায়ে আনছার খাঁ ও তার ছেলে মহব্বত ওই ঘরের দরজায় শিকল লাগিয়ে দিয়ে লোকজন জড়ো করে। এক পর্যায়ে দুইজনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাদেরকে মোবাইল ফোনে বাড়ি ফিরতে বলেন বল্লী ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ভাতিজা মুদি দোকানদার বেলাল হোসেন ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মিজানুর রহমান। একই সঙ্গে রেজাউলের বাবা ও মাকে আসার জন্য মোবাইলে খবর দেয় তারা। খবর পেয়ে তারা রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফেরেন।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে রেজাউলের বাবা ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল বারী, বড় ভাই হাফিজুল ইসলাম ও ঝাউডাঙা ইউপির সাবেক সদস্য শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন চলে আসেন তাদের বাড়িতে। এরপর চাচা শ্বশুর হযরত আলীর বাড়ির উঠানে সালিশি বৈঠক বসে। সালিশি বৈঠকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা দেয়ার শর্তে রেজাউল ইসলামকে ছেড়ে দেয়া হয়। এই অপমান সইতে না পেরে মেয়েটি গভীর রাতে বাড়ির একটি আমগাছের ডালে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান ও ইউপি সদস্য সামছুর রহমান ওড়না কেটে রিমার মরদেহ নিচে নামান। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুর ১২টার দিকে রিমার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহম্মেদ জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে নিহতের ভাই রনি হাসান বাদী হয়ে মহব্বত আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় একটি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযোগ পেলেই মামলা নেয়া হবে।

আকরামুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম