গাজীপুরের শ্রীপুরে যৌতুক না দেয়ায় নেশাগ্রস্ত স্বামী আবুল হোসেন স্ত্রী সুফিয়া আক্তারকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার সন্ধ্যায় শ্রীপুর পৌর এলাকার বেড়াইদেরচালা গ্রামের ভাড়া ঘরের পাশের ঝোপ থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত সুফিয়া পৌর এলাকার ভাংনাহাটি (চাপিলা পাড়া) গ্রামের মৃত শামসুদ্দিনের মেয়ে। ঘটনার পর ঘাতক স্বামী পলাতক রয়েছে।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের চাচা আবুল মুন্সি জানান, আনুমানিক ৮/৯ বছর পূর্বে বেড়াইদেরচালা গ্রামের শহিদুল্লাহ সঙ্গে সুফিয়ার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তাদের ঘরে সুজন নামে এক ছেলে সন্তান রয়েছে। পরে আগের ঘরের ছেলেকে নিয়ে পৌরসভার ২নং সিঅ্যান্ডবি এলাকার মৃত হবিজ উদ্দিনের ছেলে আবুল হোসেনকে বিয়ে করে সুফিয়া। বিয়ের পর থেকে স্বামী আবুল তাকে যৌতুকের জন্য প্রায়ই মারধর করতো। স্বামীর অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সুফিয়া স্বামীর বাড়ি ছেড়ে ছেলেকে নিয়ে একই গ্রামের কুলসুম বেগমের বাড়িতে ভাড়া থাকে। সেখানে গিয়েও স্বামী আবুল হোসেন তাকে যৌতুকের জন্য মারপিট করত। ছেলে সুজন বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করে।
বাড়ির মালিক কুলসুম বেগম জানান, প্রায় ৪/৫ বছর যাবত সুফিয়া তার বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে আছে। প্রায়ই আবুল হোসেন তাকে মারধর করত। রোববার গভীর রাতে সুফিয়াকে মারধর করলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিকেলে বাড়ির পাশে ঝোপের ভেতর সুফিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। পরে খবর পেয়ে স্বামী আবুল হোসেন বিকেল বাড়িতে এসে সুফিয়ার পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। ততক্ষণে সুফিয়া মারা যায়। স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে শুনে আবুল হোসেন ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
শ্রীপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা আবুল মুন্সি বাদী হয়ে স্বামী আবুল হোসেনকে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আমিনুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম