দেশজুড়ে

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে মোবাইল নিয়ে ভোগান্তি

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকায় ফোনে ইন্টারনেট চালানো ও কথা বলার সমস্যায় পড়েন এ পার্কে বেড়াতে আসা হাজার হাজার পর্যটক ও পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এতে প্রয়োজনের সময় পর্যটক এবং পার্ক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের স্বজন ও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারেন না। ফলে পার্কে অবস্থানরতদের প্রতিনিয়তই বিড়ম্বনা ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

ঈদের তিনদিন পর বুধবার দুপুরে নরসিংদী থেকে সাফারি পার্কে বেড়াতে আসা আব্দুল গফুর এ সমস্যার কথা জানান। তারা দুই পরিবারের ৯ জন সদস্য পার্কে গিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একভাগের পাঁচজন যান কোর সাফারি পার্কে বাঘ-সিংহ দেখতে, অপর ভাগে চারজন পাশের বেষ্টনিতে ম্যাকাউ পাখি দেখার কথা বলে পশ্চিমে প্রায় দেড় কিলোমিটার হেঁটে চলে যান ক্রাউন ফিজেন্ট এভিয়ারিতে (সাদা-নীল ময়ূর পাখি দেখতে)।

মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক না থাকায় একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা। পরে বিভিন্ন বেস্টনির পশু-পাখি দেখার পর পার্কের মূল ফটকে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে তাদের দেখা মিলে।

একইদিন কিশোরগঞ্জ থেকে আগত পর্যটক সামশুল আলম বললেন, পার্কে কোনো নেটওয়ার্ক নেই আগে জানা ছিল না। বিশেষ প্রয়োজনে সেখান থেকে গ্রামের বাড়িতে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি নাই। পরে পার্ক থেকে বের হয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে কথা বলে আবার পার্কে আসতে হয়েছে। এ এক বড় রকমের বিড়ম্বনা। পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার মো. সরোয়ার হোসেন খান বলেন, পার্কে ওয়্যারলেস সেট এবং মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক না থাকায় নিজেদের মধ্যেও যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হয়না। এছাড়া ইন্টারনেট (ব্রডব্যান্ড লাইন) না থাকায় বাইরে ই-মেইলেও যোগাযোগ করা যায়না। এটা যেন বিচ্ছিন্ন একটা জনপথ। পার্কের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. সামসুল আজম জানান, রেডিয়েশন হওয়ার আশঙ্কায় পার্কের ভেতরে নেটওয়ার্কিং টাওয়ার স্থাপন করা সম্ভব নয়। তবে পার্কের বাইরে নিরাপদ দূরত্বে কোনো কোম্পানির টাওয়ার স্থাপন করা যেতে পারে। এ সমস্যা সমাধানে তিনি চেষ্টা করছেন। এজন্য তিনি আগ্রহী মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোকেও স্বাগত জানিয়েছেন। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন জানান, ব্রডব্যান্ড লাইন ও ওয়াইফাই কানেশন দিয়েও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

আমিনুল ইসলাম/এমএএস/এমএস