দেশজুড়ে

‘শরীরের ওজনে টাকা দিলেও স্বামীর দাবি ছাড়ব না’

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় স্ত্রীর দাবিতে কলেজছাত্রী রশিদা আক্তার (১৮) ১৬ দিন ধরে কলেজ শিক্ষক তিন সন্তানের জনক রেজাউল করিমের (৪২) বাড়িতে অবস্থান করছেন।

ওই কলেজ শিক্ষকের মেয়ের বান্ধবী রশিদা আক্তার (১৮)। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের ৭ নং নবীনগর গ্রামে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বুধবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজছাত্রী রশিদা আক্তার স্ত্রীর দাবিতে ১৬ দিন ধরে বাউরা ইউপির ১ নং ওয়ার্ডে মহিলা ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিম বাউরা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের নবীনগর গ্রামের মৃত. আমির উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাউরা পুনম চাঁদ ভুতোরিয়া কলেজের কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক।

জানা গেছে, বাউড়া পুনম চাঁদ ভুতোরিয়া কলেজ এইচএসসিতে পড়তো রশিদা আক্তার। ওই কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিমের নজরে আসে রশিদা আক্তার। তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন ওই শিক্ষক। শিক্ষকের মেয়ের বান্ধবীর সুবাদে তার বাড়িতে আসা-যাওয়া করত ওই কলেজছাত্রী।

কলেজছাত্রী স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে উঠলে তার স্ত্রী ও সন্তানরা তাকে মারধর করেন। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বাউরা ইউপির ১ নং ওয়ার্ডে মহিলা ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে জিম্মায় রাখা হয় ছাত্রীকে।

নির্যাতিত ছাত্রী উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মৃত. আব্দুর রশিদের মেয়ে। আব্দুর রশিদ বাউরা পাবলিক দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের কর্মচারী ছিলেন।

কলেজছাত্রী রশিদা আক্তার বলেন, কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে রেজাউল আমাকে বাগে আনার জন্য বিভিন্ন রকম ছলনার আশ্রয় নেয়। রেজাউলের মেয়ে আমার বান্ধবী। এই সুযোগে সে অামাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।

বিষয়টি কলেজের কাউকে বলা যাবে না মর্মে আমাকে শপথ করায়। পরে রেজাউলও আমাকে বিয়ে করবে বলে শপথ করে। একপর্যায়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে রেজাউল।

রশিদা আক্তার বলেন, এইচএসসি পাসের পর রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং করতে গেলে সেখানেও আমার পিছু নেয় রেজাউল। একপর্যায়ে চা খাওয়ানোর কথা বলে রংপুরের এক আবাসিক হোটেল নিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। পরে ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট নোটারি পাবলিক কার্যালয়, রংপুরে হলফনামার মাধ্যমে ৫ লাখ টাকায় বিয়ের কাবিন করে শিক্ষক রেজাউল।

রশিদা আক্তার আরও বলেন, আমার শরীরের ওজনে টাকা দিলেও আমি স্বামীর দাবি ছাড়ব না। আমরা বিয়ে করেছি। আমি স্ত্রীর দাবিতে অনড় আছি।

পিতৃহীন রশিদার মামা শফিউল ইসলাম বলেন, ১৬ দিন ধরে রশিদা আক্তার মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে আছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখতে চেয়েছেন। এভাবেই ১৬ দিন গত হল। ইতোমধ্যে আমাকে ৪ লাখ টাকার লোভ দেখিয়ে বিষয়টি রফাদফা করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমি রশিদার কাছে শুনেছি সে স্বামীর ঘর করবে।

বিষয়টি নিয়ে কলেজশিক্ষক রেজাউল করিমের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বাউরা পুনম চাঁদ ভুতোরিয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মহাদেব চাঁদ ভুতোরিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখন থেকে তিন মাস আগে রেজাউল করিম কলেজের চাকরি ছেড়ে চলে গেছে। তিনি বাউরা ইউপির সফিরহাটের একটি ইফতেদায়ি মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

কলেজছাত্রী ও শিক্ষকের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাউরা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি মেয়েটিকে মহিলা ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগমের হেফাজতে রেখেছি। বিষয়টি নিয়ে ভাবছি।

রবিউল হাসান/এএম/এমএস