টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ হত্যা মামলায় জড়িত অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম সরকার জামিনে এসে এলাকায় মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন।
এ সময় চেয়ারম্যান লোকজন নিয়ে মৌন মিছিলও বের করেন। এসব মিছিল ও শোডাউনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ২৪ আগস্ট অলোয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সরকার উচ্চ আদালত থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। অন্যদিকে চেয়ারম্যান জামিনে বের হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আত্মগোপনে থাকা বাকিরাও এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যোগ দিয়েছেন চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেল শোডাউন ও মৌন মিছিলে।
এদিকে, চেয়ারম্যানের জামিন হওয়ায় তার অনুসারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অপরদিকে নিহত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম ফরিদ হত্যার বাদী ফরিদের ছোট ভাই ফজলুল করিম ও তার পরিবার সঠিক বিচার না হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট নিহত আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদের বোন আমিনা সুলতানার ওপর হত্যায় জড়িত আসামি পক্ষের লোকজন অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।
এ সময় তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আমিনা সুলতানা বাদী হয়ে পরদিন ২৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ করেছেন।
মামলার বাদী নিহতের ছোট ভাই ফজলুল করিম বলেন, নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যান জামিনে বের হয়ে এসেই এলাকায় মোটরসাইকেল শোডাউন ও মৌন মিছিল করে বেড়াচ্ছেন।
এ ধরনের মিছিল ও শোডাউনে হতবাক হয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এছাড়া নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যান এলাকায় এসেই স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে হত্যা মামলা থেকে নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের নাম বাদ দেয়ার জন্য বিএনপির এক নেতার বাড়িতে বৈঠকের আয়োজন করেন বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, জামিনে বের হয়েই চেয়ারম্যান যেভাবে এলাকায় শোডাউন শুরু করেছেন তাতে এলাকার মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে চেয়ারম্যানসহ হত্যায় জড়িতরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরই এলাকার অনেকেই গাঢাকা দেন। তবে চেয়ারম্যান জামিনে আসায় ওই পলাতকরাও এখন এলাকায় ফিরে এসেছেন।
টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্মকর্তা ওসি অশোক কুমার সিংহ জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
বাদীপক্ষের অ্যাডভোকেট আব্দুল করিম মিঞা জানান, চেয়ারম্যান যদি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেন এবং বাদীপক্ষকে কোনো প্রকার হুমকি প্রদান করেন সেক্ষেত্রে তার জামিন বাতিল হবে।
গত ৬ ডিসেম্বর সকালে ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম ফরিদের গলাকাটা মরদেহ তার নিজ গ্রাম ভারই মধ্যপাড়ার একটি নির্জন পুকুরপাড় থেকে উদ্ধার করা হয়।
আগের দিন রাত সাড়ে ৯টার পর তিনি নিখোঁজ হন। ৬ ডিসেম্বর রকিবুলের ভাই ফজলুল করিম বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
পরে ফজলুল করিম বাদী হয়ে ১৫ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে একটি সম্পূরক মামলা করেন। ওই মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম ওরফে তোতা, অপর যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য আব্দুল হামিদ মিয়া, অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সরকারসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন।
পরে আদালত মামলা দুটি তদন্ত করতে ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দেন। এদের মধ্যে তাহেরুল ইসলাম তোতা ও নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আরিফ উর রহমান টগর/এএম/জেআইএম