ভাটি বাংলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর এলাকার প্রধান সড়কের বেহাল অবস্থায় হাওরাঞ্চলের চার উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাত্র দেড় কিলোমিটার সড়কের সংস্কারের অভাবে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা, তাহেরপুর, জামালগঞ্জ উপজেলা ও মধ্যনগর থানার প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মোহনগঞ্জ পৌর এলাকার বসুন্ধরা মোড় থেকে উত্তর দৌলতপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত হাসপাতাল রোডের সড়কটি সংস্কারের অভাবে ইট, সুড়কি উঠে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এক পশলা বৃষ্টিপাতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে রাস্তাটি চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। মোহনগঞ্জ উপজেলার অন্যান্য স্থান ও হাওরাঞ্চলসহ সুনামগঞ্জ জেলার মোহনগঞ্জ সংলগ্ন ধর্মপাশা, তাহেরপুর, জামালগঞ্জ ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র মধ্যনগর থানার ১০ লক্ষাধিক নারী-পুরুষ দৈনন্দিন কাজে নিয়মিত ওই সড়ক পথেই নেত্রকোনায় যাতায়াত করে থাকেন। আর হাওরাঞ্চলে যোগাযোগের সংযোগ রক্ষাকারী একমাত্র ওই সড়ক দিয়েই অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে থাকে। সড়কটির এই বেহাল অবস্থার কারণে যাত্রী সাধারণ ও মালামাল পরিবহনকারীদের শুধু দুর্ভোগই পোহাতে হচ্ছে না, তাদের এখন অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত দ্বিতীয় শ্রেণির মোহনগঞ্জ পৌরসভার দৃশ্যত কোন উন্নয়ন হয়নি। পৌরসভা গঠনের পূর্বে যে অবস্থায় ছিল বর্তমানে তার চেয়ে বেশি কিছু উন্নয়ন বা পৌরবাসীর কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তাদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পৌরবাসী অনেকের সাথে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। অনেকে ক্ষোভের সাথে জানান, রাস্তাঘাট, পানি সরবরাহ, পানি নিষ্কাশন, ড্রেনেজ ও বিদ্যুতের দুরাবস্থাসহ নানাবিদ সমস্যায় তারা এখন হাঁপিয়ে উঠেছেন। অবহেলিত পৌরসভার উন্নয়নের কথা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছে এ পর্যন্ত কেউ কথা রাখেননি।হাসপাতাল সড়কের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. কামরুল হাসান বলেন, হাসপাতাল রোডের এই সড়কটি সংস্কার না করায় আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কে বৃষ্টির পানি জমে থাকার সময় কার্যত আমরা পানিবন্দী হয়ে পড়ি। আর দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান মজনু আহমেদ, মধুমতি অটো রাইস মিল লিমিটেড এর এমডি পারভেজ আহমেদ মুসলেহ উদ্দিন চৌধুরী, মধ্যনগর পরিবহণ সমিতির উপদেষ্টা কমিটির সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জমির আহমেদ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, দৈনন্দিন কাজে প্রতিনিয়ত আমাদের নেত্রকোনায় যাওয়া-আসা করতে হয়। কিন্তু আমাদের চলাচলের একমাত্র মোহনগঞ্জের প্রধান সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে মধ্যনগর থানা, ধর্মপাশা, তাহেরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার কয়েক লাখ নারী-পুরুষকে এখন সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ পৌর মেয়র মাহবুন্নবী শেখ সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার সত্যতা স্বীকার করে জাগো নিউজকে বলেন, এই করুণ দুরাবস্থার জন্য অনেক কথাই শুনতে হয় আমাকে। আসলে পৌরসভার অভ্যন্তরে সওজ ও এলজিইডি’র অন্তত ১০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। ইচ্ছে করলেই আমি তা সংস্কার করতে পারি না। করার মত সেই ফান্ডও নেই। বসুন্ধরা, হাসপাতাল সড়ক সংস্কারের দায়িত্ব সওজের। নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো মাসুদ খান বলেন, সড়কটি সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।এসএস/এমএস