ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিপদসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে শুক্রবার রাতে খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামের সুপরীটারীতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪শ` ফিট বালুর বাঁধ পানির তোড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানা যায়, তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে শনিবার সকাল ৬ টায় ২ সেন্টিমিটার, সকাল ৯টায় ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুর ১২ টায় ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। যে কোন সময় তিস্তা বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে, তিস্তায় পানি বৃদ্ধির কারণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানান তিস্তা ব্যারাজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুরুজ্জামান। তাছাড়া পানি বৃদ্ধির কারণে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায়, তিস্তা নদীতে বাঁধটি নির্মিত করার নামে ইউপি সদস্য তফেল উদ্দিন নামে মাত্র কাজ করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছে। উক্ত বাঁধ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১ লাখ, স্থানীয়দের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার চাঁদা ও খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক হুদা ১ লাখ টাকাসহ সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়ে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ছোটখাতা গ্রামের তফর উদ্দিনের ছেলে বাটুল ইসলাম (৩৫), আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে রানা (২৫), নায়েব আলীর ছেলে রেজাউল করিম (২৮), মৃত হাসান উল্লার ছেলে মোকামদ্দিন (৭০) সহ এলাকাবাসী জানায়, নামে মাত্র কাজ করে ইউপি সদস্য তফেল উদ্দিন সব টাকা আত্মসাৎ করেছে। খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামের সুপরীটারীর বাসিন্দা ও ১নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি সামচুল হক হুদা জানায়, টাকা আত্মসাৎ করার জন্য ইউপি সদস্য নামে মাত্র কাজ করে তিস্তা নদীতে বালুর বাঁধ করেছে। খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান সামচুল হক হুদা জানায়, ইউপি সদস্য কিভাবে টাকা উত্তোলন করেছে আমার জানা নেই। তবে তিনি বাঁধটি নির্মাণের জন্য ১ লাখ টাকা দেয়ার কথা স্বীকার করেন। নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন বলেন, আমার কাছে এলাকার লোকজন বাঁধ তৈরির জন্য এসেছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে ১ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য তফেল উদ্দিন জানায়, বালুর বাঁধটি সঠিকভাবে নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু পাইলিং করতে না পারায় শুক্রবার রাতে বাঁধটি বিধ্বস্ত হয়েছে। বাঁধ নির্মাণে বিভিন্ন অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি কোন উত্তর দেননি।এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রাম ও নদীর চর প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে ছোটখাতা, পশ্চিম বাইশপুকুর, পূর্ব বাইশপুকুর, কিসামত ছাতনাই, পূর্বছাতনাই ঝাড় শিঙ্গেরশ্বর, বাঘেরচর, টাবুর চর, ভেন্ডাবাড়ী, ছাতুনামা, হলদিবাড়ী, একতারচর, ভাষানীর চর, কিসামতের চর, ছাতুনামাসহ চরগ্রামগুলো। পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, শনিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তিস্তাপাড়ের ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর চরের নৌকার মাঝি হারুন অর রশিদ প্রামানিক (৪২) জানালেন, বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই তিস্তা নদীতে যেন জোয়ার শুরু হয়েছে। এ জোয়ারে তিস্তা ফুলে ফেঁপে উঠছে। শুক্রবার রাত থেকে হু-হু করে পানি বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, এবার বর্ষার শুরুতেই তিস্তা নদীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে। জাহেদুল ইসলাম/এসএস/এমএস