বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী সুন্দরবনে ১৯৮২ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৫৩টি, ২০০৪ সালে ৪৪০টি। সর্বশেষ ২০১৫ সালের মার্চে মাসের গণনা শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি।
বাঘ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাঘের আশ্রয়স্থলে হস্তক্ষেপ, চোরা শিকারিদের উপদ্রব, খাদ্যের অভাব, বাঘ-মানুষ দ্বন্দ্ব।
এছাড়া বনবিভাগের গুরুত্বহীনতায় হিংস্র এই প্রাণি আজ বিপন্ন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা জনিত কারণেও প্রভাব পড়েছে অনেকটা। এ জন্য দিন দিন কমে যাচ্ছে বাঘের সংখ্যা।
তবে গত ৩৭ বছরে চোরা শিকারি ও বনদস্যুদের হামলা, গ্রামবাসীর পিটুনি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে সুন্দরবনের ৭০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বাঘের হামলায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ।
বাঘ পুনর্বাসনের কাজে নিয়োজিত সুন্দরবন উপকূলীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল জানান, সুন্দবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো বাঘ শিকারের পর হত্যা করে এর চামড়া, দাত, হড়সহ বিভিন্ন অঙ্গ পাচার করা।
তিনি এ জন্য সুন্দবনের চোরা শিকারি ও বনদস্যুদের দায়ী করে বলেন, একটি বাঘের চামড়াসহ তার বিভিন্ন অঙ্গ পাচার করে তারা তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা রোজগার করেন। অথচ একজন জেলে অপহরণ করে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন।
সুন্দরবনে বাঘ কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, বাঘের সংখ্যা নির্ণয়ে পূর্বে যে সমস্ত জরিপ করা হয়েছে তা থেকে বর্তমান বাঘের যে সংখ্যা দেখানো হয় তা নিয়ে একটু ভেবে দেখা উচিত। তিনি দাবি করেন আগের ওই জরিপ সঠিক নয়।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত শোয়েব খান জানান, ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ সার্ভের মাঠ পর্যায়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে, বাঘের সঠিক সংখ্যা নিরুপণ করা এখনও সম্ভব হয়নি।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মদিনুল আহসান বলেন, আট শতাধিক ক্যামেরায় তোলা ছবি পর্যালোচনা করে বাঘের ঘনত্ব নিরুপণের কাজ শেষ হলেও বাঘের সঠিক সংখ্যা নিরুপণ করা এখনও সম্ভব হয়নি। সমস্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মাসের মধ্যে বাঘের সঠিক সংখ্যাটি জানানো যাবে।
আকরামুল ইসলাম/এএম/আইআই