চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের মাসুদপুর ও শিংনগর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে গরু আনতে যাওয়া ২০ জন বাংলাদেশি ১৮ দিনেও ফিরে না আসায় রাখালদের পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পরিবারের অভিযোগ, দালালদের কাছে পাওনা টাকার জের ধরে ভারতের কালিয়াচক গ্রামের লালচাঁন আলী তাদেরকে আটকে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছেন।
স্থানীয় ও রাখালদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট রাতে অবৈধভাবে ভারতে গরুর রাখাল পাঠানোর দালাল জোবু আলী (৫৫) ও তার ভাই রবিউল ইসলাম রবুর মাধ্যমে ভারত থেকে গরু আনার জন্য মাসুদপুর ও শিংনগর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে ভারতে পাঠায় মনাকষা ও দূর্লভপুর ইউনিয়নের প্রায় ২০ জন রাখাল।
তারা হলেন- দুর্লভপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের এনামুলের ছেলে সোনু (২৫), ইদুলের ছেলে লিটন (১৯), মোখলেশের ছেলে ডালিশ (২০), তোবুর ছেলে বাবু (২০), মোশারফের ছেলে শাকিব (২০), সফিকের ছেলে বাক্কার (২০), শুকুদ্দির ছেলে উজির (২০), ভিক্ষুর ছেলে মানিক (২৩), কুবলের ছেলে মেজের (২০), হবুর ছেলে অসিম (২০), জগনাথপুর গ্রামের কাইউমের ছেলে রাসেলসহ (২০) মনাকষা ইউনিয়নের গোপালপুর, তারাপুর ও সাহাপাড়া ও ঠুঠাপাড়া গ্রামের আরও ৯ জন।
তারা ভারতে পৌঁছানো মাত্র জোবু ও রবিউল দালালের নিকট পাওনা টাকার জের ধরে ভারতের কালিয়াচক গ্রামের লালচাঁন আলী নামে এক ব্যক্তি তাদেরকে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়।
এ ব্যাপারে দালাল রবিউল ইসলাম রবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার সাহাপাড়া গ্রামের হাবিল মেম্বারের কাছে ভারতের নাগরিক লালচাঁন ২২ লাখ ভারতীয় রুপি পাওনা থাকায় ওই টাকা আদায়ের জন্য ২০ জন রাখালকে আটকে রেখেছে। এদিকে হাবিল মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লালচান আমার কাছে কোনো টাকা পাবে না।
স্থানীয়রা জানায়, রবু ও জোবু দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে গরুর রাখাল পাঠিয়ে তাদের কাছ হতে মোটা অংকের টাকা আদায় করে। তারা দুইভাই এভাবে কোটি টাকার মালিক হয়েছে। রাজশাহী নগরী ও নিজ গ্রামে রাজকীয় বাড়ি নির্মাণ করেছেন। শুধু তাই নয়, কিনেছে শতাধিক বিঘা জমি।
শিবগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি হাবিবুল ইসলাম হাবিব জানান, যার মাধ্যমে পাঠানো হোক না কেন পাসপোর্ট ছাড়াই স্বদেশ ত্যাগ করা সস্পূর্ণ অবৈধ। তবে পাসপোর্ট আইনে মামলা করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।
মোহা. আব্দুল্লাহ/এএম /আইআই