দেশজুড়ে

কুড়িগ্রামে দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি : খাদ্য সংকট

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রামের দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সেইসঙ্গে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।  নিমজ্জিত হয়েছে তিস্তা, ধরলা,  ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার তীরবর্তী তিন শতাধিক গ্রাম, চর ও দ্বীপচর। এতে প্রায় ৪০ হাজার পরিবারের দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।রোববার দুধকুমার নদীর পানির তোড়ে সোনাহাট ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তের সংযোগ সড়কের ৫০ মিটার এলাকায় ধস দেখা দেয়ায় এ পথে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাফুজার রহমান জাগো নিউজকে বলেন, রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদে ২৩.৮৫সে.মি, সদরের ঘোগাদহ ইউনিয়নের নুনখাওয়া পয়েন্টে দুধকুমার নদে ২৬.৩৬ সে.মি, ধরলা ব্রিজ পয়েন্টে ধরলা নদীতে ২৬.২৭ সে.মি. কাউনিয়া তিস্তা ব্রিজ পয়েন্টে তিস্তা নদীতে ২৮.৭৬ সে.মি. পানি প্রবাহিত হচ্ছে।গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রে ২ সেন্টিমিটার, তিস্তায় ১৫ সেন্টিমিটার ও দুধকুমারে ৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। ধরলায় ৬ সেন্টিমিটার পানি কমলেও এখনও বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  ফলে কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুরের ৪২টি ইউনিয়নের চলাঞ্চল ও নদ-নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে এসব এলাকার সব গ্রামীণ সড়ক ডুবে গেছে। নৌকা ছাড়া যোগাযোগের উপায় নেই। বন্ধ হয়ে গেছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দু’শতাধিক ঘর-বাড়ি পানির স্রোতে ভেসে গেছে। টানা ৫ দিন ধরে পানিবন্দি থাকায় বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। অনেকেই ঘরের ভেতর উঁচু মাচায় আশ্রয় নিলেও দেখা দিয়েছে জ্বালানি ও খাদ্য সংকট। পাশাপাশি গো-খাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে।যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর, পাঁচগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমীর আলী, উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন চাঁদ, নাগেশ্বরীর বেরুবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান জানান, বন্যার্ত মানুষ খাদ্য সহায়তার জন্য প্রতিদিন ভিড় করছে। কিন্তু, রোববার পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়নি। এনজিওরাও হাত গুটিয়ে বসে আছে। ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকে এগুচ্ছে।এদিকে কুড়িগ্রাম খামার বাড়ি সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে বন্যার পানিতে  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হাজার ২৫২ হেক্টর ফসলি জমি। এরমধ্যে ৪১ হাজার ৪২৫ জন কৃষকের আমন বীজতলা, সবজি খেত, পাটসহ বিভিন্ন ফসলী জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জয়নাল আবেদীন জিল্লুর জানান, বন্যাপরিস্থিতি মোকাবেলায় ৯ উপজেলার জন্য ৮৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া কন্ট্রোল রুম খুলে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালেব মোল্লা জানান, এখন পর্যন্ত উপজেলা থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা পাওয়া যায়নি।  তালিকা পেলেই ত্রাণ তৎপরতা শুরু করা হবে। এখন পর্যন্ত ৮০ মে. টন চাল ও সাড়ে ৪ লাখ টাকা মজুদ আছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরী ভিত্তিতে আরো ৫০০ মে.টন চাল ও ৫ লাখ টাকা চেয়ে ফ্যাক্স বার্তা পাঠানো হয়েছে।এমএএস/আরআই/এসআরজে