`বিশ্ব জোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র` এই প্রবাদ বাক্যটিই আজ দেশের অজোপাড়া গাঁয়ের প্রাইমারি শিক্ষায় কোমলমতি শিশুদের যেন সঙ্গী হয়েছে। ভাঙাচোরা স্কুল, বাঁশ-চাঁচের বেড়া আর খোলা আকাশের নীচে গাছের তলায় চলছে তাদের পাঠদান। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বই আর চাটাই নিয়ে শিক্ষাগ্রহণ করতে আসছে পাড়াগাঁয়ের এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। সরকার শিক্ষা খাতে সর্বাধিক আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকলেও দেশের অজপাড়া গাঁয়ের প্রাথমিক শিক্ষা আজো রয়েছে অবহেলিত। যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলার নাম শার্শা। এ উপজেলার নাভারন বেড়ি নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উলাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জায়গা সঙ্কুলানের কারণে শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নীচে ক্লাস করছে। পরিত্যক্ত বিল্ডিং ভেঙে পড়ার ভয়ে উলাশী গ্রামের শিক্ষানুরাগীরা চাঁদা তুলে বাঁশ আর টিনের চাল দিয়ে তৈরি ঘরে চলছে ক্লাস। এসব স্কুলের শিক্ষকরা জানালেন জরাজীর্ণ ভবন আর স্কুলে জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের খোলা আকাশের নীচে ক্লাস নিতে হয়। শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রব জানান, এ উপজেলায় ১২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। কিন্তু শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৬৭৪ জন। ৮৯ জন শিক্ষকের শূন্য পদ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। তাছাড়া ৪০টি স্কুলের জরাজীর্ণ ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।তিনি আরো জানান, এ উপজেলায় যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে তার মধ্যে ৪০টি বিদ্যালয় ভবনের অবস্থা জরাজীর্ণ। আমরা এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাছাড়া অধিক শিক্ষার্থী হওয়ায় স্কুলে ক্লাস রুমের বেশ সঙ্কট রয়েছে। বেশ কিছু শিক্ষকেরো শূন্যতা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম শরিফুল আলম জাগো নিউজকে জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার উপর বিশেষ নজর দিয়েছেন। শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকরণের বিষয়ে বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। শার্শা উপজেলায় কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা রয়েছে। সেগুলির তালিকা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মো. জামাল হোসেন/এমজেড/এমএস