দেশজুড়ে

মদনে ৩ মাস ধরে ভিজিডির চাল পাচ্ছে না দুস্থরা

বোরো আবাদে ক্ষতিগ্রস্ত নেত্রকোনার মদন উপজেলার দুস্থ মহিলারা তিন মাস ধরে ভিজিডি কার্ডের চাল উত্তোলন করতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে জীবনযাপন করছেন হাওরাঞ্চলে ফসল নষ্ট হওয়া দুস্থ মানুষরা।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, মদন উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ১ হাজার ৮১৪ জন ভিজিডি কার্ডধারী দুস্থ মহিলা রয়েছেন। প্রতি মাসে তারা ৩০ কেজি করে চাল পান।

কিন্তু গত জুলাই মাস থেকে ভিজিডি কার্ডের চাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন দুস্থরা। বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি ও কৃষকের ঘরে ধান না থাকায় কাজের অভাবে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে রয়েছেন।

ভিজিডি কার্ডধারী সালমা, মাজনের মা, নুরনেহার, রাবেয়া, কবিতা, লুৎফা, আসমা, মরিয়ম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের এলাকায় বোরো ধান ক্ষতি হয়ে যাওয়ায় কৃষকের ঘরে ধান নেই। তাই আমরা কাজ করার সুযোগ না পাওয়ায় এবং তিন মাস ধরে ভিজিডি চাল সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন কাটছে। দ্রুত ভিজিডির চাল বিতরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

ভিজিডি চাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মোহনগঞ্জের জনতা মিলের মালিক মো. গোলাম মোস্তফা জাগো নিউজকে বলেন, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম থেকে কার্নেল (পুষ্টি) সরবরাহ না করায় তিন মাস ধরে মদনের ভিজিডি কার্ডের পুষ্টি চাল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তবে আমরা যোগাযোগ করছি অচিরেই এ এলাকার ভিজিডি কার্ডধারীরা চাল পাবেন।

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাসুমা মমতাজ তিন মাস ধরে ভিজিডি কার্ডধারীরা পুষ্টির চাল পাচ্ছে না সত্যতা স্বীকার করে জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে ওয়ার্ল্ড ফুড ও মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। চাল সরবরাহকারী ঠিকাদার কার্নেল না পাওয়ায় চাল বিতরণে বিঘ্ন ঘটছে।

মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়ালীউল হাসান বলেন, কার্ডদারীদের কষ্টের বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করছি অচিরেই এর সমাধান হবে।

কামাল হোসাইন/এএম/জেআইএম