দেশজুড়ে

মেঘনায় ২২ দিন জাল ফেলতে নিষেধাজ্ঞা

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভরা প্রজনন মৌসুম লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

রোববার থেকে শুরু হয়ে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন এ আইন কার্যকর থাকবে। এ সময়ের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় মাছ ধরা যাবে না।

এ সময় মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ। এ আইন আমান্য করলে জেল অথবা জরিমানা এবং উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

ইলিশের প্রজনন মৌসুম সফল করতে রামগতি, কমলনগর, রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় পৃথক পৃথকভাবে কাজ করছে মৎস্য বিভাগ। এতে সম্পৃক্ত রয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য ও গ্রাম পুলিশ।

মা ইলিশ রক্ষায় লক্ষ্মীপুরের নানা প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগম জেলেদের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভা করে আসছেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও একই সভা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২২দিন জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে লক্ষ্মীপুরের জেলের মাঝে ভিজিএফের চাল বিরতণ করবে সরকার।

এছাড়া প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল করতে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লিফলেট, পোস্টার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জেলেসহ সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, বরফ কলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অন্য কোথাও থেকে বরফ আসতে না দেয়া, নদী সংলগ্ন খাল থেকে নৌকা বের হতে না দেয়া, মাছঘাট সংলগ্ন বাজারের নৌকা ও ট্রলারের জ্বালানি তেলের দোকান বন্ধ রাখা, নদীর মাঝে জেগে উঠা চরের মাছঘাটগুলো বন্ধ রাখা প্রভৃতি।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য অফিস থেকে জানা গেছে, আশ্বিন মাসের বড় পূর্ণিমার আগের চার দিন, পূর্ণিমার দিন ও পরের ১৭দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশের প্রজনন সময়।

এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ এসে লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ডিম ছাড়ে। একটি বড় ইলিশ ২৩ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়তে পারে। বেশি ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যে নির্বিঘ্নে যাতে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে পারে সে জন্যই ইলিশসহ সকল প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম মহিব উল্লাহ বলেন, ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রে ইলিশসহ সব মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এ সময়ে মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাতকরণ অথবা বিক্রি নিষিদ্ধ। এ আইন আমান্য করলে ১ বছর থেকে ২ বছরের জেল অথবা জরিমানা এবং উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

কাজল কায়েস/এএম/আরআইপি