শিল্পপতি স্বামী রাজীব হোসেন ও শ্বশুর আবুল হোসেন কর্তৃক ভাড়াটিয়া গুন্ডাবাহিনী দ্বারা নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন গৃহবধূ সুবর্ণা আক্তার নদী। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্রাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিচার দাবি করেন।
সুবর্ণা আক্তার নদী বলেন, গত বছরের জুন মাসের ৬ তারিখ রাজীব হোসেন, পিতা আবুল হোসেন, শালগাড়ীয়া, পাবনা সদর, পাবনায় ৫ লাখ ১ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আমি তার সঙ্গে সংসার করতে থাকি। একপর্যায়ে আমার স্বামী রাজিব হোসেন তার বাবা-মা’র ‘কুপরামর্শে’ আমার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমি যৌতুকের টাকা দিতে অপারকতা প্রকাশ করায় আমাকে প্রচণ্ডভাবে মারমিট করে। এরপর থেকে যত দিন যায় ধীরে ধীরে তাদের নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, গত ৩১ মে আমার স্বামী রাজিব হোসেন তার বাবা-মার ‘কুপরামর্শে’ মারমিট করে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে বাবার বাড়ি গিয়ে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেই। এরপর ৪ জুন পাবনা সদর থানায় নারী-শিশু ও যৌতুক আইনে মামলা করি (মামলা নং-০৮)। এছাড়া পাবনা জজ কোর্টে যৌতুক মামলা করি।
সুবর্ণা আক্তার নদী আরও বলেন, মামলা করার পর আমার শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামী প্রচণ্ডভাবে আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সব মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ ও হুমকি প্রদর্শন করতে থাকেন। মামলা তুলে না নিলে আমাকে জানে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। পরে রাস্তায় ভাড়াটিয়া গুন্ডা দিয়ে গলায় চাকু ধরে মামলা তুলে নেয়ার জন্য শাসিয়ে যায়। এ অবস্থায় আমি ভয়ে পাবনা ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেফতারসহ উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এএস/আরএস/এমএস