সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার তারুটিয়া গ্রামের ইট ভাটা শ্রমিক আব্দুল হান্নান (৩০) হত্যা মামলার আসামিরা পাঁচ মাসেও গ্রেফতার হয়নি। বর্তমানে আসামিরা নিজ গ্রামে বসবাসসহ ইট ভাটায় কাজ করলেও পুলিশের নজরে পড়ছে না। বরং এই মামলার প্রধান সাক্ষী দুলাল হোসেনকে সলঙ্গা থানা পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় ৩ দিন আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে হাজতে পাঠিয়েছে। এ নিয়ে হান্নানের পরিবার এবং গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে হান্নানের পরিবার ও গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে হান্নান হত্যা মামলার আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং সাক্ষীকে ছেড়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত হান্নানের স্ত্রী রেহেনা খাতুন লিখিত বক্তব্যে বলেন, চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল আমার স্বামী হান্নানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে স্থানীয় ভরসা ইট ভাটার মধ্যে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিবারের এক গৃহবধূর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক আছে সন্দেহে হান্নানকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সুনির্দিষ্ট নাম দিয়ে মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ আসামিদের ধরছে না।
স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র পুলিশকে প্রভাবিত করায় আসামিরা ধরা পড়ছে না বলে তাদের অভিযোগে। এমনকি আসামিরা বাদী ও সাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি-ধামকী দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে শান্তিরক্ষা মামলা করা সত্ত্বেও থামছে না।
সম্প্রতি সাক্ষী দুলাল হোসেনকে ভয়ভীতি দেখানোর কারণে স্থানীয় ভরসা ইট ভাটার মালিক রফিকুল ইসলামসহ ৫ জনকে আসামি করে ১০৭ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এরপর রফিকুল ইসলাম পুলিশকে প্রভাবিত করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মামলার প্রধান সাক্ষী দুলাল হোসেনকে আটক করে থানায় তিনদিন রেখে নির্যাতন করেছে। যাতে সঠিক সাক্ষী না দেয়। পরে তাকে হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এখন মামলার বাদীসহ পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
নিহতের বাবা দবির সর্দার বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তারা আমার চোখের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু পুলিশ গ্রেফতার করছে না। কার কাছে বিচার চাইব। আপনারা আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বক্তব্য রাখেন নিহতের মা মাজেদা খাতুন, ছোট ভাই মাসুদ, চাচী ভানু খাতুন, ভাবী রুনা খাতুন, শিশু সন্তান রাকিবুল ইসলাম ও গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলীম।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রফিক জানান, তদন্তের স্বার্থে সাক্ষী দুলালকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে হত্যা মামলার আসামিদের পাঁচ মাসেও গ্রেফতার কেন করা হচ্ছে না এমন প্রশ্নের উত্তরে এই কর্মকর্তা জানান, মামলায় বাদী কার নাম দিয়েছে সেটা আমাদের দেখার প্রয়োজন নেই।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/আইআই