ঝিনাইদহের শৈলকুপার সারুটিয়া ইউনিয়নে জিকে (গঙ্গা-কপোতাক্ষ) প্রকল্পের প্রধান সেচ খাল ভেঙে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এ প্রকল্পের পরিচালক ওয়াহিদুজ্জামানের উপস্থিত থাকলেও কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রধান খালটি পানির চাপে ভেঙে গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ নিজ পছন্দের ঠিকাদারসহ সবাই অধিক লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে দিনভর কর্মকর্তা-কর্মচারিরা প্রত্যক্ষদর্শীর ভূমিকা পালন করে হুমকিতে ফেলে দেয় চরবাখরবা গ্রামের প্রধান খালের অংশটি। এসময় ক্ষতিগ্রস্থ স্থানের পাশেই জিকের আওতাধীন শতাধিক শ্রমিক দিনভর মাটির কাজ করছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী আরো জানান, পাউবোর অধিন্যস্ত গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ খালের বৃহৎ অংশ শৈলকুপার সারুটিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। খালের পাকা এ সড়ক দিয়ে লাঙ্গলবাঁধ থেকে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন শত শত যানবাহনে লোকজন চলাফেরা করেন। গত কয়েকদিন যাবৎ চরবাখরবা গ্রামের মধ্যে প্রধান খালে ফাটল দেখা দেয়। একই স্থানে অপর ধারে জিকের আওতাধীন প্রকল্পে কাজ করছেন শত শত শ্রমিক। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্থ জায়গা দিয়ে পানি বের হতে থাকে। গ্রামের আজাদ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, স্থানীয়রা কর্মকর্তাদের ডেকে বার বার তাগিদ দিলেও মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি বরং তারা অবহেলা করে ভবিষ্যতে লাভের আশায় অসৎ উদ্দেশ্যে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন। দুপুর বেলা মুহুর্তে ধ্বসে যায় খালের নিচের অংশ, উপরে কোনোরকমে টিকে আছে পাকা রাস্তা। হুহু করে পানি প্রবেশ করে তলিয়ে গেছে এলাকার বহু বাড়ন্ত ক্ষেতখামার। নিজস্ব শ্রমিক থাকা সত্বেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিয়ে জিকের পিডিসহ কর্মকর্তাগণ পুরো ঘটনার স্বয়ং স্বাক্ষী হিসেবে বিতর্কিত হওয়ায় জনরোষে পড়ে দ্রুত সটকে পড়েন।চরবাখরবা গ্রামের রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, দিনভর তাগিদ দিলেও অবহেলার কারণেই খাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে এ ফাটল বন্ধ করার জন্য একাধিকবার এখানে প্রকল্প পাতানো হয়েছে। নামমাত্র কাজ করায় এ ধরনের জনদুর্ভোগে পড়লো বহু মানুষ। বেশি করে ভাঙলে পুনরায় বড় বাজেটে প্রকল্প করা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন এলাকাবসী। এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক ওয়াহিদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, কয়েকদিন ধরেই ভাঙন রোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল কিন্তু মূল ফাটলের উৎপত্তিস্থল না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। হঠাৎ বৃহস্পতিবার দুপুরে পাকা রাস্তার নিচ দিয়ে রাস্তাটি ভয়াবহ আকারে ধ্বসে যায়। জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এমজেড/এমএস