দেশজুড়ে

ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ, ঋণের জালে জেলেরা

ঝালকাঠির শহরের ২ নং পূর্বচাঁদকাঠি ও ৩ নং কৃষ্ণকাঠি এলাকার মধ্যবর্তী একটি স্থানে রয়েছে জেলেদের বসতি। এ স্থানে এক সময় বিপুল সংখ্যক জেলেরা বসবাস করতেন বলে এলাকার নামকরণ করা হয় জেলেপাড়া। 

কিন্তু বর্তমানে সেখানে জেলে পরিবার রয়েছে মাত্র ৩৫টি। ৩৫টি পরিবারের ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক লোক নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।

গত ১ অক্টোবর শুরু হয়ে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চলছে মা ইলিশ নিধনবিরোধী অভিযান। এ সময়ে নদীতে জাল ফেললেই ভ্রাম্যমাণ আদালত এসে জেলেকে আটক এবং জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলে। একেকটি জালে ৩৫/৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। 

‘সরকারি নির্দেশনা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নদীতে জাল ফেলতে যাচ্ছি না। কিন্তু এ সময়ে সরকারি বরাদ্দের ২০ কেজি করে ভিজিএফ চালের সহায়তাও পাচ্ছি না। তাই সংসার চালানোর জন্য বেসরকারি সংস্থা ‘আশা’ থেকে শতকরা ১০ টাকা হারে সুদে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি।’

নিজের জেলে জীবনের বর্তমান অবস্থার বর্ণনা এভাবেই দিলেন জেলেপাড়া এলাকার ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি ও জেলে সমবায় সমিতির সভাপতি নবদ্বীপ মালো। 

তিনি বলেন, ঋণ না নিলে পরিবার-পরিজন ও সন্তান নিয়ে না খেয়ে থাকতে হতো। এভাবে শুধু আমিই না অধিকাংশ জেলেই আশা, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিও এবং সমবায় সমিতি (মাল্টিপারপাস) থেকে ঋণ নিয়েছে।

অধির মালো জানান, সরকার মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে জাল না ফেলতে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু এ সময় জেলেরা কি খাবে এমন কোনো সুযোগ করা হয়নি। জাটকা নিধনের সময় শুধু মাত্র ৪০ কেজি চাল দেয়, সঙ্গে অন্য কোন উপকরণ নেই। কিন্তু মা ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হলেও এখন পর্যন্ত এসে পৌঁছেনি। তাই আমরা এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে জীবন বাঁচাচ্ছি।

জেলে নবদ্বীপ মালো আরও জানান, আশা থেকে ঋণ নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যেই কিস্তি দেয়া শুরু করতে হয়। আমাদের প্রথম কিস্তির সময়ে কর্মকর্তাদের হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করলে তারা মানবিক কারণে আমাদের সুযোগ দেয়। এরপরই জাল ফেলার সুযোগ আসলে মাছ ধরে বিক্রি করে কিস্তি দেয়া শুরু করি। ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ এই ২২ দিন সময়ের ঘাটতি পোষাতে আমাদের কমপক্ষে ৩ মাস বেগ পেতে হয়। মাস খানেক পরে আবার শুরু হবে জাটকাবিরোধী অভিযান। যত প্রতিকূল অবস্থা সবই আমাদের প্রান্তিক জেলেদের।

বেসরকারি সংস্থা ‘আশা’ জেলা ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন জানান, জেলেদের জন্য আমাদের বিশেষ কোনো ঋণের ব্যবস্থা নেই। সাধারণ গ্রাহকের মতোই জেলেরা এসে আমাদের কাছ থেকে ঋণ নেয়। কিস্তি নেয়ার সময় অনুরোধ করলে আমরা মানবিক কারণে তাদের সুযোগ দেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিক বলেন, জেলেদের ২০ কেজি ভিজিএফ চাল সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। বরাদ্দ আসলেই আমরা তাদের দিতে পারবো।    

মোঃ আতিকুর রহমান/এএম/আরআইপি