পিরোজপুরে প্রবল বর্ষণে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। এ বর্ষণে উপকূলীয় ৯০০ পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ৩ দিন ধরে বাড়ছে কাঁচা, বলেশ্বর, সন্ধ্যা ও কালিগঙ্গা নদীর পানি। ফলে গত ৩ দিন ধরে প্লাবিত হচ্ছে এসব নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো। অধিক বর্ষণে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা, কলাখালী ও শারিকতলা ইউনিয়ন, জিয়ানগর উপজেলার কালাইয়া, সাঈদখাল, ঢেপসাবুনিয়া, টগড়া, উপমেদপুর, চরবলেশ্বর, খোলপটুয়া গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষ কাজে বের হতে না পারায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া চরসাঈদখালী আবাসন প্রকল্প, চাড়াখালী গুচ্ছগ্রাম, পাড়েরহাট আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা কাজে বের হতে না পারায় অসহায় হয়ে পড়েছেন। ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলীখালী ইউনিয়ন, মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ও বড় মাছুয়া ইউনিয়ন, কাউখালী উপজেলার কাউখালী, চিড়াপাড়া ও আমড়াঝুড়ি ইউনিয়ন, নেছারাবাদ উপজেলার স্বরুপকাঠি পৌরসভা এবং নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া, দেউলবাড়ী দোবরা এবং মালিখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামগুলো নদী তীরবর্তী হওয়ায় বিগত কয়েকদিনের অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে সেসব গ্রামগুলো।
নদী তীরবর্তী এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙা এবং কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ না থাকায় সহজেই প্লাবিত হচ্ছে নদী পাড়ের গ্রামগুলো। আর এর ফলে মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়তে পারে ওইসব এলাকার স্বাস্থ্য সেবা। সোমবার সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানিতে প্লাবিত অধিকাংশ বাড়ির পায়খানা প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে ওইসব এলাকায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে পানিবাহিত রোগ, এমনটাই আশঙ্কা করছেন সেখানকার লোকজন।পিরোজপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ননী গোপাল জাগো নিউজকে বলেন, পায়খানা প্লাবিত হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই হুমকিস্বরূপ। এতে কলেরা, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগ অতি সহজেই ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। এক্ষেত্রে শিশুরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। বন্যার সময় পানিবাহিত রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তিনি সকলকে টিউবওয়েলসহ বিশুদ্ধ পানির উৎসগুলো নিরাপদ রাখার পরামর্শ দেন। হাসান মামুন/এমজেড/আরআইপি