দেশজুড়ে

বাঁচানো গেল না রুবিনাকে

বাঁচানো গেল না রুবিনাকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে হাত-পা বেঁধে রুবিনার শরীরে অকটেন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় পাষণ্ড স্বামী।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার চাপিতলা গ্রামের আবদুস সালামের ৫ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন রুবিনা। গত সোমবার গভীর রাতে কুমিল্লার সদর উপজেলা দুর্গাপুর গ্রামে স্বামীর বাড়িতে ওই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে তার স্বামী সাজ্জাদ হোসেন।

রুবিনার বাবা আবদুস সালাম জানান, জেলার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইতালী মার্কেট এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে পেশায় রং মিস্ত্রী সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে তার মেয়ে রুবিনা আক্তারের (২১) বিয়ে হয় প্রায় ২ বছর আগে। সংসারে সে সুখি ছিল না। সাজ্জাদ বিয়ের পর থেকে রুবিনাকে আমাদের কাছ থেকে টাকা আনতে বলে কিন্তু টাকা না পেয়ে প্রায়ই তাকে মারধর করে। রুবিনা তার ১০ মাসের মেয়ে নুসরাতকে নিয়ে নগরীর রেসকোর্স ধানমন্ডি এলাকায় আমাদের বাসায় ছিল। ৩ দিন আগে তার স্বামী সাজ্জাদ এসে তাকে দুর্গাপুরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, সোমবার রাত একটার দিকে রুবিনার শাশুড়ি ফোন দিয়ে জানায় আমার মেয়ে নিজের গায়ে আগুন দিয়েছে। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে গেলে ডাক্তাররা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

রুবিনার ভাই শামীম জানান, ঘুমন্ত অবস্থায় তার বোনের হাত-পা বেঁধে শরীরে অকটেন ঢেলে আগুন দিয়ে দেয় স্বামী সাজ্জাদ। এসময় বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে রুবিনার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে রুবিনাকে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে রেখে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়।

মৃত্যুর আগে সে পুলিশের কাছেও বলেছে, ঘুম থেকে তুলে তার স্বামী সাজ্জাদ তাকে মারধর করে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা.পার্থ শংকর পাল জানান, রোজিনার দেহের ৪৮ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল তাই তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

আজ বুধবার সকালে রুবিনার মরদেহ ময়নাতদন্তের পর কুমিল্লায় দাফনের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হবে। তার বাবা কুমিল্লা নগরীর বাদশাহ মিয়া বাজারের মুদি মালের ব্যবসা করেন। পরিবারে সবার ছোট মেয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ গোটা পরিবার। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রুবিনার স্বামী ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে রাতে কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. সালাউদ্দিন জানান, এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কামাল উদ্দিন/এফএ/আইআই