দেশজুড়ে

বই বিলিয়ে ১৫ বছর

বয়সে বার্ধক্যের ছোঁয়া লেগেছে মাত্র। সাধ্য তার সীমিত কিন্তু স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া। প্রতিযোগিতায় মোড়া ব্যস্ত জীবনে সবাই কেবল চায় পরীক্ষায় ভালো ফলাফল। পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়তে যখন সবাই ভুলতে বসেছে তখন নিজের বইয়ের ঝোলা তুলে নিয়েছেন আ. লতিফ খসরু। নিজেকে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি সাজিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন স্কুলে স্কুলে। এমনকি বাসস্ট্যান্ড কিংবা লঞ্চঘাট সবখানেই বিলিয়ে বেড়াচ্ছেন বই। উদ্দেশ্য একটাই সমাজে শিক্ষার আলো ছড়ানো। আর এ লাইব্রেরির মাধ্যমেই গোটা এলাকায় সবার কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন তিনি।

পাঠাগার আন্দোলনের উদ্যোক্তা আ. লতিফ খসরু জানান, কাউখালী উপজেলা সদরে একটি গণপাঠাগার ও গ্রামগঞ্জে পাঠাগার থাকা সত্ত্বেও সেখানে মানুষ বই পড়তে যায় না। তা দেখে তিনি নিজেই মানুষদের বইমুখী করার জন্য ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি খুলেছেন। তিনি উপজেলার কাউখালী সদর ইউনিয়নের কাউখালী এস.বি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে, কেউন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাঝে ভ্রাম্যমাণ এ লাইব্রেরির মাধ্যমে বই বিতরণ করেন।

এছাড়া উপজেলার ২নং আমরাজুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব আমরাজুড়ী গ্রামে, আমরাজুড়ী ফেরিঘাটে ও ১নং সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের গোয়ালতা, পূর্ব বেতকা, বেতকা গ্রামে এবং উপজেলার ৪নং চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের পথে প্রান্তে মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করেন। তিনি এই কাজটি ১৫ বছর ধরে করে আসছেন।

কাউখালী এস.বি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাদিবা নীরা বলেন, খসরু কাকার ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে বই পেয়ে খুবই আনন্দিত হয়েছি। এরকমভাবে কেউ কখনও আমাদেরকে পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি অন্য বই দিয়ে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেনি।

কাউখালী মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রভাষক রবিন মুখার্জী বলেন, বহুমাত্রিক মেধা মননের অধিকারী আ. লতিফ খসরু জ্ঞানের লাইব্রেরি নিয়ে উপজেলার মানুষের মধ্যে বই বিতরণ করে আসছেন। বহুমাত্রিক মেধা ও মননের অধিকারী এ রকম খসরু আমাদের সমাজে অতীব প্রয়োজন।

হাসান মামুন/এফএ/আইআই