দেশজুড়ে

পুলিশি অভিযানে আতঙ্কে অটোরিকশা চালকরা

জীবিকার তাগিদে শহরমুখী হচ্ছে গ্রামের মানুষ। গত চার বছরে শহরের মানুষ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় চারগুণ। কিন্তু বাড়েনি রাস্তার প্রশস্ততা। অপরকিল্পিতভাবে শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা-ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং লাইসেন্সবিহীন গাড়ি অবৈধভাবে চলাচলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

এ সমস্যা দূরীকরণে গত ১০ দিন থেকে কাজ করছে নওগাঁ ট্রাফিক পুলিশ। এ কয়েক দিনে প্রায় ৩০০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও রিকশা আটক করা হয়েছে। এসব গাড়ি নওগাঁ পুলিশ লাইন্স মাঠে রাখা হয়েছে। আটক এসব গাড়ি কোনো রকম জরিমানা ছাড়াই শাস্তিস্বরূপ তিন-চারদিন আটকে রাখছে পুলিশ প্রশাসন। পরে মালিকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়েও দেয়া হচ্ছে। আবার তিন-চারদিন পর গাড়িগুলো ছেড়ে দেয়ার কথা থাকলেও পুলিশ মালিকদের হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে মাইকিং করে পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই গাড়িগুলো আটক করায় চালকদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক শুরু হয়েছে। নতুন করে অটোরিকশাগুলো লাইসেন্স ও নবায়ন করতে চালকরা ছুটছেন নওগাঁ পৌরসভা অফিসে। সেখানে অতিসহজে এবং অল্প সময়ে লাইসেন্স পেতে দালালের কাছে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে হাজার টাকা।

আবার আটক গাড়িগুলো পুলিশ নির্দিষ্ট সময় পর ছেড়ে না দেওয়ায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন গাড়ির মালিকরা। পুলিশের হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিলে এরপর গাড়িগুলো ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে গাড়িগুলো আটকে থাকায় ব্যাটারির সমস্যা হয়ে পড়ছে। এছাড়া কিস্তি থেকে যারা টাকা উত্তোলন করে গাড়ি কিনছে তারাই বেশি সমস্যার মধ্যে পড়েছেন।

আবদুল জলিল নামে এক অটোরিকশার মালিক জানান, পুলিশ তার দুইটি গাড়ি আটক করেছিল। চারদিন পর ছেড়ে দেয়ার কথা থাকলেও পুলিশ ছেড়ে দেয়নি। ছয়দিন হয়রানির পর ট্রাফিক অফিসের এক মুন্সিকে এক হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছেন। কয়েকদিন গাড়ি বন্ধ থাকায় ব্যাটারিও ডাউন হয়ে গেছে।

শহরের খাঁস-নওগাঁ মহল্লার অটোরিকশা চালক নুরুল ইসলাম জানান, গত দুই মাস আগে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ৬০ হাজার টাকা কিস্তির ওপর অটোরিকশাটি কিনেছিলেন। প্রতিদিন ৬০০-৭০০ টাকা আয় হতো। প্রতিমাসে ৬ হাজার ৯০০ টাকা কিস্তি দিতে হয়। অটোরিকশার আয় দিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ সংসারের সব খরচ চলে। গত ১৬ অক্টোবর শহরের বালুডাঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে আসার সময় সাকির্ট হাউজের কাছে পুলিশ গাড়িটি আটক করে নিয়ে যায়। এখন ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায় কিনা শঙ্কায় আছি।

নওগাঁ পৌরসভা যানবাহন ইন্সপেক্টর নুরুল ইমলাম মন্টু বলেন, লাইসেন্সকৃত শহরের অটোরিকশা আছে প্রায় এক হাজার ৪০০টি। এগুলো নবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি অটোরিকশা ৪০০ টাকা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ১৫০ টাকা। নতুন অটোরিকশার ক্ষেত্রে লাইসেন্স ৫০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। শহরে যানজট কমাতে গত ২০১৪ সাল থেকে ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান ও রিকশার লাইসেন্স বন্ধ আছে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে মাইকিং করার প্রয়োজন হয়নি। কারণ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সবাইকে কয়েকবার ম্যাসেজ দেয়া হয়েছে।

গাড়ির মালিকদের হয়রানি করা এবং টাকা নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে এ রকম কোনো অভিযোগ আমার কাছে নেই। অনেক মানুষ আছে যারা যোগাযোগ করে। এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।

আব্বাস আলী/আরএআর/জেআইএম