বগুড়ার গাবতলী শহীদ জিয়া মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ও দুই শিক্ষককে হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিনের বেলায় দলবল নিয়ে কলেজে ঢুকে এ হামলা চালান উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এটিএম নুরুল আমিন সুমন। তার বাবা জেপির (মঞ্জু) কেন্দ্রীয় নেতা এবং সাবেক সাংসদ এটিএম আমিনুল ইসলাম।
আহত অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিনকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বুধবার সকালে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় অধ্যক্ষকে মারধরের দৃশ্য দেখে মোটরসাইকেলযোগে পালাতে গেলে তাদেরকেও পথরোধ করে শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর একই কায়দায় হাতুড়িপেটা করা হয় ওই দুই শিক্ষককে।
আহত শিক্ষক অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ভূগোল বিভাগের প্রভাষক মঞ্জুরুল ইসলাম এবং রসায়ন বিভাগের শিক্ষক রেজাউল হক। তাদের বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন অভিযোগ করেন, গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচ আযম খানকে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের দ্বিতীয় দফায় সভাপতি না করায় প্রথমে তার অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এরপর ঘটনার সময় আটটি মোটরসাইকেলে করে শ্রমিকলীগ নেতা নুরুল আমিনের নেতৃত্বে ১৮-২০ জন নেতাকর্মী কলেজে এসে ত্রাস সৃষ্টি করেন।
অধ্যক্ষের অভিযোগ, শ্রমিক লীগের ওই নেতা তার কার্যালয়ে ঢুকে প্রথমে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে হাঁটুতে, পায়ে, পিঠেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।
একপর্যায়ে ধারাল অস্ত্র বের করলে অন্য শিক্ষকেরা ভয়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন। এ হামলার দৃশ্য দেখে পালাতে গেলে অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ভূগোল বিভাগের দুই শিক্ষককেও হাতুড়িপেটা করা হয়। মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রাণ নিয়ে শঙ্কিত।
কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২২ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে দ্বন্দ্বে জের ধরে সম্প্রতি একক সিদ্ধান্তে অধ্যক্ষকে সরিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস নামের একজনকে ওই অস্থায়ীভাবে অধ্যক্ষের পদে বসান কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আযম খান।
গত ৮ অক্টোবর উচ্চআদালতের আদেশে অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন স্বপদে বহাল হন। এরমধ্যেই পরিচালনা পরিষদের নিয়মিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তিনি অ্যাডহক কমিটির জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সভাপতির লোকজন কয়েকদিন আগে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। তালা খুলে মঙ্গলবার চেয়ারে বসতে গেলেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।
গাবতলী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল বাসার বলেন, এ নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ তিন-চারটি মামলা রয়েছে। অধ্যক্ষকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা দেয়া হলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযুক্ত শ্রমিকলীগ নেতা নুরুল আমিন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাও তিনি বলতে পারবেন না।
তিনি বলেন, কলেজে শিক্ষক নিয়োগের সময় একটি পদের বিপরীতে পাওয়া অর্থ শ্রমিক লীগকে দেয়ার কথা ছিল। অধ্যক্ষ নিয়োগের সেই টাকার জামিনদাতা হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে টাকা দেয়ার ব্যাপারে টালবাহানা করছিলেন তিনি। এ বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। এর বেশি কিছু আমি জানি না।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আযম খান এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। এ ধরনের একটি ঘটনার খবর তিনি লোকমুখে শুনেছেন বলে জানান।
লিমন বাসার/এএম/এমএস