দেশজুড়ে

মহাস্থানে বাংলাদেশ-ফ্রান্সের যৌথ খনন শুরু

প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন নগরী ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান মহাস্থান গড়ে বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ খনন কাজ শুরু হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর থেকে ১৮ তম খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। যা চলবে আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত।

মহাস্থান গড় ঐতিহাসিক স্থানের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে খনন করা হয়েছে। খননের বিভিন্ন পর্যায়ে এখান থেকে বেরিয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স সরকার যৌথভাবে খনন কাজ পরিচালনা করে আসছে। মাঝে দুই বছর বন্ধ থাকলেও এবার আবারও তা শুরু হয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ১৭ দফায় এখানে খনন কাজ চালানো হয়।

মহাস্থান দুর্গনগরীর মাঝামাঝি এলাকা লইয়েরকুড়ি বা ফ্রান্স মাঠ নামে পরিচিত ভিটায় এই খনন কাজ চালানো হচ্ছে। এই ভিটার উত্তর-পশ্চিম কোণে বৈরাগীর ভিটা, দক্ষিণ পাশে পরশুরাম প্যালেস ও জিয়তকুণ্ড, পূর্ব পাশে শিলাদেবীর ঘাট এবং উত্তর ও পশ্চিম পাশে উন্মুক্ত মাঠ রয়েছে।

এবারের খনন কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে ফ্রান্সের পক্ষে আট সদস্যের প্রতিনিধি দল। এদের মধ্যে দলনেতা রয়েছেন খনন বিশেষজ্ঞ কোলিন লেফনারেক।

এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে খনন কাজে নিযুক্ত ছয় সদস্যের দলের ফিল্ড ডিরেক্টর হিসেবে আছেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা।

এছাড়াও দলনেতা হিসেবে আছেন মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মজিবর রহমান। তার সঙ্গে রয়েছেন সহকারী কাস্টোডিয়ান এসএম হানাত বিন ইসলাম, সিনিয়র ড্রাফটম্যান আফজাল হোসেন, ফটোগ্রাফার আবুল কালাম আজাদ ও লোকমান হোসেন।

মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মজিবর রহমান জানান, দীঘদিন বিরতির পর আবারও বৈরাগীর ভিটায় প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হয়েছে। পাকিস্তান আমলে এখানে প্রথম খনন শুরু করা হয়। সেই সময় দুটি প্রাচীন মন্দিরের সন্ধান মিলেছে। এরপর এখানে আর কোনো খনন হয়নি। আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গনগরী মহাস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা প্রত্নসম্পদ। ইতিহাসের সন্ধানেই এবার বৈরাগীর ভিটায় খনন শুরু হয়েছে। মাসব্যাপী খনন কাজে এখানে নানা প্রত্মসামগ্রী পাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ, সর্বশেষ ২০১৪ সালে ১৫দিনের খননকালে ২১০০ বছর আগের তিনটি পাতকুয়া বা রিং ওয়েলের সন্ধান পাওয়া যায়। দুর্গনগর ও এর আশপাশের এলাকায় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে সেখানে কুয়াগুলো খনন করা হয়েছিলো। সেই সঙ্গে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা কিছু সামগ্রীও পাওয়া যায়।

আরএআর/জেআইএম