দেশজুড়ে

না খেয়ে, বিনা চিকিৎসায় কোনো রোহিঙ্গা মারা যায়নি : ত্রাণমন্ত্রী

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের মধ্যে কেউ গত আড়াই মাসে না খেয়ে থাকেনি। তাদের জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কেউ বলতে পারবে না খেয়ে কিংবা বিনা চিকিৎসায় কোনো রোহিঙ্গা মারা গেছেন। এ কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর। কারণ প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বলেছেন, আমি যদি খেয়ে থাকি, তাহলে আমার দেশে আসা রোহিঙ্গারাও খাবে। একজন রোহিঙ্গাও অভুক্ত থাকবে না।

শনিবার দুপুরে চাঁদপুর শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জেলা কমিউনিটি পুলিশিং আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ত্রাণমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আরেকজন আগুন সন্ত্রাসী। তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেলেন, সেখানে কি ষড়যন্ত্র করেছেন, তিনিই জানেন। তিনি এসে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াবেন। এতে কারও কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তিনি ৪০ মিনিটের রাস্তা ১ সপ্তাহ সময় নিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছে গেলেন। পথে পথে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলেন। নিজের গাড়ি নিজেই ভাঙলেন, সাংবাদিকদের গাড়িও ভাঙলেন, মারধর করলেন। কিন্তু উল্টো বলছেন শেখ হাসিনার কর্মীরা এগুলো করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন- পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক। তিনি বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং হচ্ছে সমাজের যত কমিউনিটি আছে তাদের সঙ্গে বসে কথা বলে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করা।

আইজিপি বলেন, গুলশানের ঘটনার পর। বাংলাদেশের পুলিশের চৌকস কর্মকর্তারা জঙ্গিদের আস্তানা খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছে। অনেকগুলো অভিযানের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এ পর্যন্ত অনেক জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে। আমরা তাদেরকে জীবিত উদ্ধার করার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, জঙ্গিরা আমাদের ওপর আক্রমণ করলে বাধ্য হয়ে অভিযান করতে হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে জঙ্গিদের সরাসরি মারা হয়। কিন্তু আমাদের সফল অভিযানকে সারাবিশ্ব স্বাগত জানিয়েছে এবং প্রশংসা করেছে। কিন্তু একটি মহল সব সময় আমাদের এই অভিযানকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বলছেন, আমরা জঙ্গিদেরকে মেরে ফেলছি। তাদের তথ্য দিচ্ছি না। এভাবে তারা পুলিশের কাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। ওই মহল সব সময় পুলিশের মনবল দুর্বল করার জন্য এবং সরকার পতনের জন্য এ ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু তারা কখনও সফল হবেন না।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মনির উজ-জামান ও পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (প্রশাসন) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিয়ষক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ ওসমান গণি পাটওয়ারী ও চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাসুদ হোসেন প্রমুখ।

ইকরাম চৌধুরী/এএম/আরআইপি