রাজনীতি

লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদ নিয়ে এখনো বিতর্ক

দল থেকে বহিস্কার করলেও সাবেক ডাক ও টেলিযোগযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এখনো আওয়ামী লীগের এমপি। ইসলাম ধর্মকে অবমাননার দায়ে প্রথমে তার মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকেও তাকে বহিস্কার করা হয়। কিন্তু সেই বহিস্কারাদেশ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে পৌঁছেনি। এজন্য এখনও তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য।জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক মাসের জেল জীবন শেষে জামিনে মুক্ত সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ এ সংসদ সদস্যের পদ খারিজ চেয়ে দলের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত অজ্ঞাত কারণে আটকে আছে। যে কারণে তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান হচ্ছে না। চিঠি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সংসদ সচিবালয়ও।স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমার কাছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন চিঠি আসেনি। চিঠি পেলে আমি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবো। কমিশন সিদ্ধান্ত  নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে জানানোর পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।তবে লতিফ সিদ্দিকীর অধিবেশনে যোগদানের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।স্পিকার আরো জানান, সংসদে ট্রেজারি বেঞ্চের ১৪ নম্বর আসনটি লতিফ সিদ্দিকীর। এখনো অপরিবর্তীত রয়ে গেছে অধিবেশন কক্ষে তার বসার আসনটি।গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.), হজ ও তাবলীগ জামাত সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়ায় লতিফ সিদ্দিকীকে প্রথমে মন্ত্রিপরিষদ থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর তাকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ ও সর্বশেষ দলের সাধারণ সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। এরপর গত ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ খারিজ চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই চিঠি পাঠানো হয়নি।সংসদ সদস্য পদ শূন্য প্রসঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি উক্ত দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ বালিত হবে।’তবে বহিষ্কার করা হলে তার বিরুদ্ধে কী হবে তা স্পষ্ট নয়।এইচএস/আরএস/এমআরআই