ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় পুলিশ ও জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অর্ধশত জেলেকে আসামি করে মামলা করেছে। বুধবার সকালে বড়ইয়া গ্রামের বিষখালি নদীর বুথমারা খালের মোহনায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- বরিশাল জেলার বাখেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতির নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আতিকুর রহমান, এএসআই আফজাল হোসেন, নায়েক রিয়াজুল ইসলাম, পুুলিশ সদস্য আনোয়ার হোসেন, আলতাফ হোসেন ও পুলিশের ট্রলারচালক ফোরকান গাজি।
পালট গ্রামের রফিজ খানের ছেলে জেলে নুর জামাল (৪০), নুর জামানের তার মা নুরি বেগম (৬০), বড়ইয়া গ্রামের মজিবর খানের ছেলে জেলে সোহাগ খান (১৭), আলতাফ হাওলাদারের ছেলে জেলে মনির হাওলাদার (২৫), পালট গ্রামের কাদের খানের ছেলে খেয়ার ট্রলারচালক এনায়েত খান (৩৫)। এরা সবাই রাজাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের বিষখালি নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জাটকা ইলিশ শিকারের ঘটনায় নুরজামালসহ তিন জেলেকে আটক করে ট্রলারে টহলরত নৌপুলিশের আট সদস্যের একটি দল।
এ সময় নুরজামালকে পুলিশ হেফাজতে রাখলেও বাকি দুই জেলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে জেলে নুরজামালকে পুলিশের ট্রলারে বেঁধে নির্যাতন করা হচ্ছে এমন খবরে জেলে ও এলাকাবাসী কয়েকটি ট্রলারে গিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে আসার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
এতে পুলিশ ও স্থানীয় নারীসহ মোট ১১ জন আহত হন। তবে নুরজামালকে মারধরের কথা অস্বীকার করেছে নৌপুলিশ সদস্যরা।
রাজাপুর থানা পুলিশের ওসি শামসুল আরেফিন জানান, এ ঘটনায় আহত বাখেরগঞ্জের নিয়ামতির নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আতিকুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
আতিকুর রহমান/এএম/জেআইএম