দেশজুড়ে

এই সড়কে একদিন গাড়ি চালিয়ে দুই দিন বিশ্রামে থাকতে হয়

৪০ কিলোমিটার সড়কের ৩৫ কিলোমিটারই ভাঙাচোরা। সড়কের কার্পেটিং উঠে খনাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এমন বেহাল অবস্থা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায়ই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।

শরীয়তপুর সদর পৌরসভার আংগারিয়া বাজার থেকে ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের হাইওয়ের ৩৫ কিলোমিটার সড়কই ভেঙেচুরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে দূরপাল্লার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। পিচের ওপর ইটের সলিং করে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা এ সড়ক বৃষ্টি হলেই ইট-বালু উঠে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

অল্প বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তগুলোতে পানি জমে থাকে। এমন অবস্থার কবলে পড়ে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই বাস-ট্রাকের যন্ত্রাংশ ভেঙে কিংবা খাদে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপদ জেলা কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের শরীয়তপুর সদর পৌরসভার আংগারিয়া বড় ব্রিজের পূর্বপাশ থেকে সখিপুর থানার ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার সড়ক।

ঢাকার যানজট এড়াতে দূরত্ব ও সময় যাতে কম লাগে তাই ২০০০ সালে এ আঞ্চলিক সড়কটি চালু হয়। তখন থেকেই এ সড়ক দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলাচল শুরু করে।

তিন বছর ধরে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন। ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ এই তিন অর্থ বছরে এইচবিবি ও সিলকোর্ট কার্পেটিং করে সড়কটি সংস্কারে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তারপরও সড়কটির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। ফলে দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী, চালক ও ব্যবসায়ীরা।

সড়ক ও জনপদ বলছে গাড়ি চলাচল যেন বন্ধ না হয় তাই এইচবিবি ও সিলকোর্ট কার্পেটিং করে সড়কটি সচল রাখা হয়েছে। সড়কটি নতুনভাবে তৈরি করার জন্য ইওআই দরপত্র আহ্বান করে সয়েল টেস্টের জন্য কনসালট্যান্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তবে কবে নাগাদ নতুন সড়কের কাজ শুরু করবেন তা জানেন না সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষ।

খুলনা-চট্টগ্রামগামী রাস্তায় চলাচলকারী বাসের চালক আলমগীর হোসেন বলেন, সড়কটির ইট-বালু উঠে এতো বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, একদিন গাড়ি চালালে দুই দিন বিশ্রামে থাকতে হয়। এ পথে এখন আর আগের মতো যাত্রী পাওয়া যায় না। তাই আমাদের ট্রিপও কমে গেছে।

অটোরিকশাচালক মোতালেব ফকির বলেন, সড়কটি সংস্কার না করায় সহজ একটি যাতায়াতের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় আমাদের।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। সড়কের অবস্থা বেহালের মধ্যেও দূরপাল্লার যানবাহনকে বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়ক মেরামতের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় সড়কগুলো মোটেও টিকছে না। আমাদের দাবি দ্রুত নতুন সড়ক তৈরি করা হোক।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের শরীয়তপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ দাশ গুপ্ত বলেন, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। বড় কোনো প্রকল্প না থাকায় ইটের সলিং দিয়ে বড় গর্তগুলো মেরামত করা হচ্ছে। যাতে বাস, ট্রাক আটকে যানযটের সৃষ্টি না হয়। এ সমস্যা সমাধানে বড় আকারের প্রকল্প নিয়ে সড়কটি নতুনভাবে তৈরি করতে হবে।

মো. ছগির হোসেন/এএম/এমএস