‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী দিনাজপুরের আঞ্চলিক ইজতেমা শেষ হয়েছে।
শনিবার গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে ইজতেমাস্থলে আখেরি মোনাজাতে অংশ্রগ্রহণ করার জন্য লাখ লাখ মুসুল্লি জমায়েত হন। সকাল থেকে গোর-এ শহীদ বড় ময়দানের চারটি প্রবেশ মুখ দিয়ে দলে দলে মুসুল্লিরা প্রবেশ করতে থাকেন ইজতেমাস্থলে।
ইজতেমা ময়দানে আখেরি মোনাজাতে অংশ্রগ্রহণ করার জন্য সকাল থেকে দিনাজপুরসহ আশেপাশের জেলার মুসুল্লিরা জড়ো হতে থাকেন দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে ইজতেমা প্রাঙ্গণে।
প্রায় ১৪ একর জায়গাজুড়ে ইজতেমার নির্দিষ্ট স্থানসহ আশেপাশে যেখানেই ফাঁকা ছিল সেখানেই দাঁড়িয়ে মুসুল্লিদের মোনাজাত করতে দেখা গেছে। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। আশেপাশের শিশু পার্কে, রাস্তার দুই পাশে, জেলা প্রশাসকের বাসভব, সার্কিট হাউজের সামনে রাস্তার পাশে নারীরাও এই আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। ইজতেমায় আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করায় শহরের দোকান-পাট ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।
শনিবার সকাল ১১টা ৫৬মিনিটে শুরু হওয়া আখেরি মোনাজাত শেষ হয় ১২টা ৭ মিনিটে। এর আগে তাবলীক জামাতের মুরুব্বিরা হেদায়েতের জন্য বক্তব্য রাখেন। মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মার শান্তি কামনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজ শেষে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তিনদিনের আঞ্চলিক ইজতেমা। তার আগে থেকেই আসতে শুরু করেন মুসুল্লিরা।
শুক্রবার লাখো মুসুল্লির জমায়েতে জুমার নামাজ আদায় ও শনিবার আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণকে ইহজীবন ও পরকালের জন্য একটি বড় সৌভাগ্যের প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন মুসুল্লিরা।
ইজতেমা আয়োজন কমিটির প্রধান রায়হানুল আমিন চৌধুরী জানান, ইজতেমাস্থলের যে প্যান্ডেল স্থাপন করা হয়েছে তাতে ১ লাখ ৬০ হাজার মুসুল্লির স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু আখেরি মোনাজাতে এই প্যান্ডেল ছাড়িয়ে আরও কয়েকগুণ জায়গাজুড়ে মুসল্লিরা মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। মোনাজাতে নারী-পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সের প্রায় ৭ লক্ষাধিক মুসুল্লি অংশগ্রহণ করেন।
আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইলের মুরুব্বি ও বাংলাদেশ তাবলীক জামাতের আমির (জিম্মাদার) মাওলানা রবিউল হক।
এমদাদুল হক মিলন/এএম/জেআইএম