সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নে একটি সেতুর অভাবে ৫০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে। ১৫টি গ্রামের নারী-পুরুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে এই বাঁশের সাঁকোটি।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে উপজেলার চলনবিল পাড়ের মোহনপুর, উধুনিয়া ও বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের লোকজন এই ঘাটে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা হবে, হচ্ছে বলেই ৪৬ বছর পার করেছেন। কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
উপজেলার বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের মোহনপুর-বলাইগাঁতী আঞ্চলিক সড়কে ত্রিমোহনী ঘাটে দুর্গাদহ নদীটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এখন অভিশাপ। সেতু না থাকায় যাতায়াত, উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেয়া, অন্যান্য মালামাল বহনে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। বর্ষার সময় তো মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।
স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক আব্দুল হালিম, কৃষক আব্দুল হামিদ, শফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এলাকার লোকজন মিলে এই নদীর উপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে থাকেন। ৩টি ইউনিয়নের বামনগ্রাম, সুকুলহাট, শুকলাই, বাবুলিদহ, নরসিংহপাড়া, আচলগাঁতী, বলাইগাঁতী, চৌবাড়িয়া, মাগুড়া, দিলপাশার, বড়পাঙ্গাসী ও মোহনপুর গ্রামসহ ১৫টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের প্রতিদিন মোহনপুর বাজার, মোহনপুর রেলস্টেশন ও উল্লাপাড়া উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়। বিশেষ করে এ অঞ্চলের কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেবার প্রয়োজন হলে রোগীর লোকজনের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।
মোহনপুর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিয়াসমিন, রুখসানা, লিপি ও মানসী জানায়, এই বাশেঁর সাঁকোটি নতুন থাকা অবস্থায় ভালোভাবে চলাচল করা যেত। কিন্তু এখন খুব সমস্যা। গত বছর বৃষ্টির দিনে নদী পার হতে গিয়ে সাঁকো থেকে একজন পড়ে যায়। শুধু সাঁতার জানার কারণে প্রাণে বেঁচে যায় সে। এখানে পাকা সেতু নির্মাণ করা গেলে অন্তত শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হতো বলে এসব শিক্ষার্থী জানায়।
বড় পাঙ্গাসী ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির লিটন জাগো নিউজকে জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে দূর্গাদহ নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের সকল কার্যক্রম শেষ হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এটি আর নির্মাণ হয়নি।
উল্লাপাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, ত্রিমোহনী ঘাটে পাকা সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে এটি এখনও নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। অর্থ পেলে কাজ শুরু করা হবে।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমএএস/এমএস