নড়াইলে টিসিবি পণ্য উত্তোলন না করায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রতি বছর সরকারি ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টিসিবি ব্যস্ত হয়ে পড়ে কমদামে মালামাল বিক্রি করার জন্য। কিন্তু এবছর নড়াইল জেলার কোথাও টিসিবির পণ্যবাহী গাড়ি দেখা যাচ্ছে না। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে গরীব দুস্থ ও নিম্ন আয়ের লোকজনের মধ্যে। পবিত্র ঈদুল ফিতরে ন্যায্য মূল্যে ভোগ্যপণ্য পাচ্ছেনা তারা।জেলার ৩৯ জন টিসিবির ডিলারের মধ্যে মাত্র এক জন পণ্য তুলেছেন । কম লাভের অজুহাতে ডিলাররা এসব পণ্য তুলছেন না বলে জানা গেছে । এদিকে নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি দামে ভোগ্যপণ্য কিনে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন । জেলার একজন ডিলার অভিযোগ করেন, প্রথম চালানের ভোজ্য তেলের মেয়াদ মাত্র দুই মাস ছিলো। এছাড়া ইদুরে কাটা ক্যানে ময়লাযুক্ত পুরাতন তেল সরবরাহ করা হয়েছে। নড়াইল জেলায় মোট টিসিবির ডিলার রয়েছে ৩৯ জন। শেখ প্রান্তর এন্টারপ্রাইজ নামের একজন ডিলার পণ্য তুলেছেন বাকি ৩৮ জন ডিলার কোনো পণ্য তুলেননি। ডিলারদের পণ্য না তোলা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনসহ কোনো ডিলাররা কথা বলতে না চাইলে ও জানা গেছে এসব ডিলারদের অধিকাংশই অব্যবসায়ী । রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা ডিলার হয়েছেন। ডিলারদের গাফিলতিতে সরকারি ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টিসিবির সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ আশা করেছিল রমজান ও ঈদুল ফিতরে কমদানে পণ্য পেয়ে তারা ভালোভাবে রোজা এবং ঈদ পালন করতে পারবেন। জেলার ৩ উপজেলার মধ্যে শুধু নড়াইল শহরের একমাত্র শেখ এন্টারপ্রাইজ পণ্য তুলেছে। সুতরাং কালিয়া ও লোহাগড়া উপজেলার সকল নিম্ন আয়ের মানুষ এবং সদরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্ন আয়ের লোকেরা এ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।লোহাগড়ার কাশিপুর গ্রামের নায়েব আলি জাগো নিউজকে জানান, আমাদের সরকারি ভোগ্যপণ্য ক্রয় করতে নড়াইল যাওয়া সম্ভবনা তাই এ বছর ঈদে কষ্ট হবে। সরকার আমাদের সেবা দিতে চাইলো কিন্তু জেলা প্রশাসন আমাদের দিলোনা।কালিয়ায় বাজার করতে আসা মাধবপাশা গ্রামের রেজাইল মোল্লা জাগো নিউজকে জানান, সরকারি ভোগ্যপণ্য কিনতে এসেছিলাম কিন্তু কোথাও পেলামনা। নড়াইল জেলা মার্কেটিং অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম এ ব্যাপারে জাগো নিউজকে বলেন ডিলারদের পণ্য তোলা বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যাপার। তবে আগামীতে চাপ প্রয়োগ করে মালামাল সরবরাহ সঠিক রাখার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করলেন তিনি। টিসিবি ডিলারদের নিয়ন্ত্রক এনডিসি মো. মামুন ভূইয়া জাগো নিউজকে জানান, ৩৯টি টিসিবি ডিলারের মধ্যে একজন ডিলার পণ্য তুললো আর অন্যরা কেন তুললনা বিষয়টি আমার জানা নাই। তবে এটা যদি সত্য হয় তাহলে যেসব টিসিবি ডিলার পণ্য উত্তোলন করেনি তদন্ত সাপেক্ষে প্রমানিত হলে তাদের ডিলারসিপ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যাস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।হাফিজুল নিলু/এসকেডি/এমআরআই