পঞ্চগড়ের আলোচিত দেবীগঞ্জের গৌড়ীয় মঠের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর হত্যাকাণ্ডে পৃথকভাবে দায়ের করা অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার ২য় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ আবু মনসুর মো. জিয়াউল হকের আদালতে ১০ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।
এর আগে শীর্ষ জেএমবি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব গান্ধী, আলমগীর হোসেন, রমজান আলী, খলিলুর রহমান ওরফে খলিল মুন্সি ও হারেস আলীকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাদের আবারও জেল হাজতে পাঠানো হয়। গত বছরের ৮ নভেম্বর একই আদালতে ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শ্রীশ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠে পুরোহিত যজ্ঞেশ্বরকে গলাকেটে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা। এ ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড়ভাই রবীন্দ্রনাথ রায়। পরে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আরও দুটি মামলা দায়ের করে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ।
পুলিশের দায়ের করা দুই মামলায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৬ সালের ১৬ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ১০ আসামির মধ্যে ৪ জন বিভিন্নস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এদের মধ্যে রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাধন ঢাকার হোলি আর্টিজেনে পুলিশের অপারেশনে, সাদ্দাম হোসেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে, নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল রাজশাহীতে ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এবং শফিউল আলম ওরফে ডন ওরফে সোহান ময়মনসিংহে র্যাবের সঙ্গে বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হয়। জেএমবি সদস্য রানা নামে অপর এক আসামি পলাতক রয়েছে।
পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আমিনুর রহমান জানান, দেবীগঞ্জের সন্ত গৌড়ীয় মঠের দাসাধিকারী যজ্ঞেশ্বর হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মামলার কার্যক্রম মূলতবি ঘোষণা করে আগামী ১৮ জানুয়ারি আবারও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য্য করেন। এর আগে ৬ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছিল। আমরা আশা করি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাবো।
সফিকুল আলম/এমএএস/আরআইপি